‘চাকর-বাকর ভাইয়েরা, আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:১৪ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘চাকর-বাকর’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে স্নেহাস্পদ ব্যক্তিদের চাকর-বাকর হিসেবে তুলনা করায় তারা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন। আমি এসব চাকর-বাকরের কাছে ক্ষমা চাইছি। এসব রাজনৈতিক কর্মীদের চাকর-বাকরের গুণাবলীও নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে চাকর-বাকরদের আপনি যতই অত্যাচার করেন, এক সময় তারা ঘাড় ত্যাড়া করে বলবে- রাখেন আপনার চাকরি, আমি গেলাম। এখনকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবস্থা এর চেয়েও খারাপ। না আছে তাদের কব্জিতে জোর, না আছে মাথায় বুদ্ধি। তারা সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করবে। চাকর-বাকর ভাইয়েরা, আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও ‘জাতি গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাত্র অধিকারের নবনির্বাচিত নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আবারও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েমের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ছাত্রসমাজকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রথম কাউন্সিলে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নেতাদের পরিচয় করিয়ে দিতে এ সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল গত সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, ‘উনার বয়স হওয়ার কারণে উল্টা-পাল্টা কথা বলছেন। তিনি যেসব কথা বলেন, সেগুলো যুক্তিসংগত নয়।’

এর জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বয়স আমার হয়েছে, এটা কিন্তু একদম সঠিক কথা। কিন্তু ওই দূরের রংটাও আমি বলতে পারি। আপনাদের মতো কথায় কথায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় না। কারণ আমার সততা এবং সাহস রয়েছে। আমি জনগণের পক্ষের লোক।’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তারেক রহমানের জায়গায় জাইমাকে ক্ষমতা দিতে বলিনি। আমি বলেছি, তাকে রাজনীতি শিখতে দেন, রাজপথে আসতে বলেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হলে রাজপথে হাঁটতে হয়।’

দেশে ভয়নাক চক্রান্ত চলছে বলেও মনে করেন জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে রাস্তায় থাকতে হবে। এখন যদি সবাই সজাগ না হন, বুদ্ধিজীবী সবাইকে সমবেত না করা হয় তাহলে গণতন্ত্রের কবর তো হবেই বরং মাফিয়া রাষ্ট্রের জন্ম হবে। তখন আমরা কেউ শান্তিতে থাকতে পারবো না।’

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদিব, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহ আতা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান এবং পেশাজীবী পরিষদের নেতারা বক্তৃতা করেন।

আল-সাদী ভূঁইয়া/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]