মুজিব শতবর্ষে শিশুদের জন্য শত পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপ-কমিটি। এতে শত শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের পুরস্কার তুলে দেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় শিশুদের ভালোবাসতেন। সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আজ এ শিশুরা ছবি এঁকেছে। আশা করি, আজকের শিশুরা বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করেই আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে দেশকে।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সমাজ থেকে সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এ বাংলায় হাজার বছরের সংস্কৃতি ছিল ভাটিয়ালি, জারি-সারি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। যাত্রাপালা হারিয়ে গেছে, নাটকও হারানোর পথে।’

তিনি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষের মনের চিত্তবিনোদনের জায়গাটাও খোলা রাখতে হবে। আজ আমাদের দেশ থেকে লোকসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার কারণে ধর্মের নামে আজ অধর্ম জেঁকে বসেছে। গ্রামে-গঞ্জে নাটক যাত্রার বদলে ওয়াজ মাহফিল হয়। এই ওয়াজ মাহফিলের নামে এমন সব কথাবার্তা হয় যেটা রীতিমতো ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসীদের শঙ্কিত করে। এ ধরনের মিথ্যাচার এই ধরনের অযৌক্তিক হাস্যকর কথা বললে অন্য ধর্মের মানুষের কাছে আমরা হাসির পাত্র হয়ে পড়ি। আজকের শিশুদের চিত্রকর্মের পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।’

অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাঙালি ও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। আমাদের ভাষা, আমাদের গান, চিত্রকলাসহ সংস্কৃতি এগিয়ে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তা অন্য আকার ধারণ করতো। আওয়ামী লীগ তো বাঙালির কথা বলছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন আমি মুসলমান, আমি বাঙালি। আওয়ামী লীগ সেই আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে তা অন্য কোনো দল বুঝতে পারছে না, একমাত্র আওয়ামী লীগ বুঝতে পারছে। আওয়ামী লীগই বাংলাদেশ, এটাকে স্বীকার করতে হবে।’

jagonews24

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, রঙতুলির আঁচড়ে যে ছোট্ট শিল্পীরা নানা আঙ্গিকে চিত্রায়িত করেছেন আমাদের জাতির পিতাকে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের জাতির পিতা শিল্প কাব্য গানে চিত্রকলায় চিত্রিত হয়ে এভাবেই বেঁচে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির অন্তরে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে বৈশ্বিক নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাশরাফি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে সুন্দর আগামী গড়তে সবাইকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সচেতনতা, পরিশেষ দূষণ রোধ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করার নাগরিক দায়িত্ব।

পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপ-কমিটি বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। সরকারি হিসাবে এরই মধ্যে বনভূমি ২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে শেখ হাসিনার সরকারের একটি বড় সাফল্য।

বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, বন ও পরিবেশবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন।

এসময় অতিথিদের একটি ব্যাগে শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর বই, শেখ কামাল মুক্তপ্রণের প্রতিনিধি, বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ক্রিস্টাল, বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ও টপসহ গাছ উপহার তুলে দেন দেলোয়ার হোসেন।

প্রতিযোগী শূন্য থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার ধাপে একশ শিশুর মাঝে ‘ক’ শাখার জন্য একটি করে কমিক বুক, গ্লোব, বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ক্রিস্টাল, তিন প্যাকেট রঙ, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট, টপসহ গাছ ও প্রথম স্থান অর্জনকারীদের জন্য বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া খ-গ-ঘ শাখার শিশুদের প্রতিটি প্যাকেটে যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, একাত্তরের সহযোদ্ধা, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়া চিন, শত বর্ষে বঙ্গবন্ধুর বই।

এসইউজে/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]