‘শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনীয় নেতা এখন বিশ্বে নেই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবিলা করে দেশের উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে সফলতা, তাতে বর্তমান বিশ্বে তার সঙ্গে তুলনীয় নেতা আর নেই।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এই মন্তব্য করেন। ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।

কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় এতে অংশ নেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, এশিয়ান এজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাদীম কাদির, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার বলেন, প্রতিকুল পরিস্থিতি, হত্যাচেষ্টা-এসব পার হয়ে দলকে সংহত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) এশিয়া কেন সারা পৃথিবীর এক প্রধান নেতার স্থান অর্জন করেছেন। তার মধ্যে আমি যে আত্মবিশ্বাস দেখি, নিজের দেশ এবং পররাষ্ট্রে তার যে সাফল্য, তাতে তার সঙ্গে তুলনা করা যায় এমন অন্য কোনো নেতা আমাদের সামনে নেই।

তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাওয়া দেখতে হলে দেখতে হবে দেশের স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে কি না, দেশের অর্থনীতি বেড়েছে কি না, বিদ্যুৎ সংযোগ বেড়েছে কি না, লোকের জীবনের উন্নয়ন হয়েছে কি না। এই বিষয়টি গর্বের যে বাংলা ভাষা পৃথিবীর মাতৃভাষার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এজন্য শেখ হাসিনা তড়িৎ যে উদ্যোগটা নিয়েছিলেন এটা সামান্য তৃপ্তি নয়, অসাধারণ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, যে বাংলাদেশকে আমরা পঁচাত্তরের পর হারিয়ে ফেলেছিলাম সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ তিনি (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, উন্নয়নের যাত্রায় যুক্ত করতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। সন্তান পরিবারকে তিনি সেভাবে সময় দিতে পারেননি। সব সময় তিনি দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, নেত্রীর দেশের প্রতি, মাটি ও মানুষের প্রতি তার যে টান, গভীরতা, একই সঙ্গে অসাধারণ একজন কর্মীবান্ধব নেতা তিনি। অসাধারণ মানবিক মানুষ শেখ হাসিনা। দেশের এমন কোনো ক্ষেত্রে নেই যিনি উন্নয়ন করেননি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তার কন্যার নেতৃত্বেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে নিয়ে যাচ্ছে দেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ বলেন, আমাদের বড় দায়িত্ব হচ্ছে শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করে ধরে রাখা। এজন্য আমাদের যোগ্য এবং সৎ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে শেখ হাসিনাকে এগিয়ে নিতে নিজদের যোগ্য করে, মানবিক গুণাবলি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর গুণাবলি ধারণ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশের যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল, যারা ২১ বছর এক প্রকার শাসন করেছে; সেটিকে জিরো টলারেন্স প্রধানমন্ত্রীর একটি কার্যকরী পদক্ষেপ, সেটি সারাবিশ্বে প্রশংসা পাচ্ছে। একই সঙ্গে একটি অসাম্প্রদায়িক চিন্তা সেটি কিন্তু বড় বিষয়। তার গণতান্ত্রিক ভাবনার সঙ্গে দারিদ্র বিমোচন এবং তাদের যে অবস্থার পরিবর্তন সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার যে অবদান এবং লড়াই সেটি নি:সন্দেহ প্রশংসনীয়। জীবনের পরোয়া না করে তিনি যেভাবে প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছেন সেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। আজকে যে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি তার পেছনে শেখ হাসিনার অবদান।

এশিয়ান এজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাদীম কাদির বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে উনি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। উনার কাছে অনেক ফোনই এসেছিল কিন্তু তিনি সেগুলো রিজেক্ট করেছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেই তিনি তা পেরেছেন।

ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর থেকে তাকে লড়াই করতে হয়েছে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে। দেশে ফিরে এসে তার টিকে থাকার সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে। ১৯৯১ সালে পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শুধু নির্বাচন ও দলকে নেতৃত্ব দিলেই হবে না রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে হবে। শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি পুরো ৫ বছর মেয়াদ পূরণ করে ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছন। এর আগে-পরে কখনো শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি কেউ। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শেখ হাসিনা পদযাত্রা কখনো শেষ হবে না, কারণ তিনি যতদিন থাকবেন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, শেখ হাসিনা না আসলে নারীর ক্ষমতায়ন এখনকার মতো হতো না। আগে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এতো দৃশ্যমান ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। সব জায়গায় এখন নারীরা কাজ করছেন। আজকে চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীর সাবলীল উপস্থিতি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে ভোটাধিকার দিয়েছেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক বলেন, শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের বর্তমানের নয়, তিনি দেশের ভবিষ্যতের। তার হাতেই দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ। তার বিকল্প কেউ নাই, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী।

এসইউজে/জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]