শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান হানিফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২১

দেশের শিক্ষক সমাজকে রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, শিক্ষকেরা রাজনীতিতে থাকলে তাদের নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হয়। যা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করে। তারা সম্মান ও মর্যাদার আসনে থাকবেন। কারণ, তারা মানুষ গড়ার কারিগর।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন হানিফ। “বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে শিক্ষকদের মর্যাদা” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, বিএনপিতে অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন, যাদের মধ্যে পৈশাচিক মানসিকতা নেই। কিন্তু তাদের নেতা পৈশাচিক মানসিকতা লালন করে মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান। উনারা তা না চাইলেও নেতার চাওয়ার কাছে জিম্মি হয়ে গেছেন। তারেক জিয়ার সন্ত্রাসের কাছে উনারা জিম্মি। তারেক জিয়ার নির্দেশিত হয়ে তারা সেভাবেই কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল, আপনারা অশিক্ষিত ব্যক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী কথা বলেন, এটা জাতি প্রত্যাশা করে না।

আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হোক আওয়ামী লীগ সেটাই চায় দাবি করে হানিফ বলেন, জনগণ যাদের পছন্দ করবে তাদের প্রতি রায় দেবে। জনগণের রায় মানার মানসিকতা পোষণ করে নির্বাচন করুন।

তিনি বলেন, আগামীতেও নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুযায়ী। এ দেশে তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার আসার আর সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সে পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। কেউ যদি চিন্তা করে মানুষ মেরে, হত্যা করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে দাবি আদায় করা যাবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

এ সময় শিক্ষার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে হানিফ বলেন, দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষাও কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। এবার সরকার ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে। ৩২৫টি হাইস্কুল এবং ৩৩১টি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। সাড়ে চার হাজার শিক্ষককে এমপিভুক্তি দিয়ে শিক্ষকদের প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যার যে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা এবং যে নৈতিক দায়িত্ব, সেটি তিনি পালন করেছেন।

ক্ষমতাসীন দলের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তবে বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার মান মফস্বল এলাকায় অনেক নিচে নেমে গেছে। এর কারণ, আগে ক্ষমতায় থাকা সরকারের (বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল।

জাতীয় শোকের দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের সমালোচনা করে এ বিষয়ে হানিফ বলেন, জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকীতে উল্লাস করার জন্য বেগম জিয়া একইদিন জন্মদিন পালন করেন। নৈতিক শিক্ষা থাকলে সেটি তিনি করতে পারতেন না।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের মধ্যে কোনো মায়া হয়নি। কারণ, তাদের মধ্যে শিক্ষার কোনো আলো নেই। এজন্যই শোক দিবসে জন্মদিন উদযাপনে তাদের কুণ্ঠাবোধ হয় না।

সেমিনারে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকার এমপিওভুক্ত করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আবারো বড় আকারে এমপিও আবেদন নিতে যাচ্ছি। যতটুকু সম্ভব সবাইকে আমরা চেষ্টা করবো এমপিও কাঠামোর মধ্যে আনতে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আগের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুত ছিলো, সেগুলো আমরা সংশোধন করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, শহরাঞ্চলের বাইরে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে পাসের হারসহ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত মনোন্নয়ন করতে।

তিনি বলেন, পাসের হার কেন কমছে, এর কারণ তো শিক্ষক নন। শিক্ষকের যদি আয়-রোজগার ভালো না থাকে, ঘরে শান্তি না থাকে তবে তারা সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে পারবেন না। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন, নারীশিক্ষায় বিশেষ বিনিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

নওফেল আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখে না, দেখে মানুষের সুষম অধিকার নিশ্চিত হলো কি না। সেটাই সত্যিকারের উন্নয়ন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থান করেন স্বাশিপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু। এতে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মশিউর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুস সালাম ও মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]