পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী/ফাইল ছবি

সরকার সবদিক দিয়ে গণধিকৃত অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘কুমিল্লায় মণ্ডপের ঘটনা, শেখ হাসিনার যে গণতন্ত্রহীনতা, সবকিছু মিলিয়ে আজ যে গণধিকৃত অবস্থার মধ্যে পড়েছে সরকার, সেখান থেকে নিজেদের ভাবমূর্তি বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে এবং আমাদের ঐতিহ্যকে ধুলায় লুণ্ঠিত করেছে।’

রোববার (১৭ অক্টোবর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘যে ব্যক্তির সুস্থতা কামনায় আজ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে সেই ব্যক্তি আমাদের ছাত্রজীবন থেকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হয়, দেশ-জাতির ক্রান্তিকালে কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হয় সেই অদম্য দৃষ্টান্ত তিনি দেখিয়েছেন; তার নাম বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থ থাকার পরও দেশের মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকার থেকে তিনি বিন্দুমাত্র পিছপা হননি।’

তিনি বলেন, ‘আজ এই সরকার শুধুমাত্র অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনগণের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সুচিকিৎসা তার নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, সেই অধিকারও হরণ করেছেন শেখ হাসিনা, আর বড় বড় কথা বলছেন।’

‘দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিলে ২০০১ সালেও ক্ষমতায় আসতাম’ শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আপনি কোনোবারই সঠিক পন্থায় ক্ষমতায় আসেননি, আপনি আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে সব সময় ক্ষমতায় এসেছেন। কারণ আপনি দেশকে ভালোবাসেন না, দেশের মানুষকে ভালোবাসেন না। যদি ভালোবাসতেন তাহলে আপনি দিনের ভোট রাতে করেন কেন? আপনি দেশের প্রধান বিরোধী দল ও রাজনৈতিক দলগুলো বাদ দিয়ে ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করেন কেন? আপনি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাইকারি দরে মামলা দিয়ে কারাগারে ভরে রাখেন কেন? আপনার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য’- প্রশ্ন রাখেন রিজভী।

‘আপনি দেশ বিক্রি করেছেন বলেই আপনি দেশের গণতন্ত্রকে বিক্রি করছেন, দেশের নাগরিকত্বকে বিক্রি করছেন, দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে জেলখানায় ভরে মানুষের অধিকার বিক্রি করে আজ ক্ষমতায় রয়েছেন। আপনি সবচেয়ে বড় বিক্রেতা, অবৈধ বিক্রেতা।’

তিনি বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) দেশের স্বার্থ বিক্রি করেননি? দেশের স্বার্থ বিক্রি করেছেন বলেই আজ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না। আপনি কূটনীতিক তৎপরতা চালিয়ে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেননি। এখানেও দেশের স্বার্থ বিক্রি করেছেন। নোবেল প্রাইজ পাওয়ার জন্য আপনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনি দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব বিক্রি করেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘আজ সবাই জানে আপনি অনেক চুক্তি করেছেন গোপনে। সেই চুক্তি জনগণের সামনে উপস্থাপন করেননি, পার্লামেন্টেও সেটা নিয়ে আসেননি। আপনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতায় রয়েছেন। আজ কোন স্বার্থে, কে আপনাকে ক্ষমতায় রেখেছে? আপনি তো নির্বাচিত নন, এটা আপনি ভালোভাবেই জানেন। সারাদেশের মানুষের হৃদয়ের ভাষা আপনি টের পান ঠিকই কিন্তু বলতে চান না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাজার বছরের সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য সেই ঐতিহ্য সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে ফেলে তিনি (শেখ হাসিনা) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিক্রি করে দিয়েছেন, নিজেকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য।’

রিজভী বলেন, ‘এই সরকার মানুষ চায় না, এরা নাগরিক স্বাধীনতা চায় না। তারা নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই বড় মনে করে। সেই কারণে এক এক করে ধ্বংস করেছেন আমাদের সব প্রতিষ্ঠান। আপনি আদালতে যাবেন, যদি দেখা যায় আপনি বিএনপির কোনো নেতা তাহলে আপনি বিচার পাবেন না। আর সরকার যেটা বলে দেবে আপনার বিচারের রায় সেটাই হবে। আপনি আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন, আপনি পুলিশের কাছে যাবেন পুলিশ উল্টো আপনার নামে মামলা দেবে কারণ আপনি বিএনপি করেন। আপনি সত্য কথা লিখবেন আপনার নামে মামলা হবে, আপনি মুক্তকণ্ঠে কথা বলবেন, আপনার গলায় দড়ি ঝুলবে। এই হচ্ছে শেখ হাসিনার শাসন।’

কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে সংগঠনের সহ-সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, যুগ্ম-সম্পাদক টি এস আইয়ুব, দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]