কপাল খুলছে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতার

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

স্থায়ী কমিটিসহ নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। এতে কপাল খুলছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব নেতা পদোন্নতি পেতে চলেছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের শূন্যপদ পূরণের জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি।

সবশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। কাউন্সিলের কিছুদিন পর কয়েকটি পদ বাকি রেখে নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয় দলের পক্ষ থেকে। মৃত্যু, পদত্যাগ, দলত্যাগ, অব্যাহতিসহ নানা কারণে বিএনপিতে এখন স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির ৬১টি পদ শূন্য।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া চারটি পদ পূরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া আগে থেকেই স্থায়ী কমিটিতে স্বেচ্ছায় দল ছাড়া ও অসুস্থজনিত কারণে খালি হওয়া আরও দুটি পদেও নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে আলোচনায় আছেন দলের একঝাঁক নেতা। একইভাবে দুজন স্থায়ী কমিটিতে চলে যাওয়া, মৃত্যু ও পদত্যাগের কারণে ভাইস চেয়ারম্যানের ১১টি পদ শূন্য হয়েছে।

এদিকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার।

সূত্র জানায়, করোনার আগে ও পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির চারজন সদস্য ছাড়াও পাঁচজন ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের ১৩ জন সদস্য মারা গেছেন। সম্পাদক, সহ-সম্পাদক পর্যায়ে মারা গেছেন আটজন। নির্বাহী কমিটির সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। এছাড়া পদত্যাগ, বহিষ্কার, দল ত্যাগ ও অব্যাহতি দেওয়া নেতার সংখ্যা ১১ জন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার সময় ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। এছাড়া রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জুনে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখনো চারটি পদ ফাঁকা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে করোনাসহ নানা অসুস্থতায় মারা গেছেন ফজলুর রহমান পটল, বেগম সারোয়ারী রহমান, হারুন-অর রশীদ খান মুন্নু, আখতার হামিদ সিদ্দিকী, ফজলুল হক আসফিয়া, জাফরুল হাসান, নূরুল হুদা, কবির মুরাদ, সঞ্জীব চৌধুরী, ওয়াহিদুল ইসলাম, এম এ হক, নূরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, অ্যাডভোকেট কামরুল মনিরসহ ১৩ জন। এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল মান্নান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আমিনুল হক মারা গেছেন।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু সাইদ খোকন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, দিলদার হোসেন সেলিম, সহ-পল্লীবিষয়ক সম্পাদক মোজাহার আলী প্রধান ও সহ-গ্রামবিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন মারা গেছেন।

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, আহসান উল্লাহ হাসান, খুররম খান চৌধুরী, আবুল কাশেম চৌধুরী, এ এফ এম ইকবাল, মোজাহার হোসেন, কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিশ, সরোয়ার আজম খান, কাজী আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমেদ, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, চমন আরা, এম এ মতিন, এম এ মজিদ, মিয়া মোহাম্মদ সেলিম, কাজী সেকান্দার আলী ডালিম, ড. মামুন রহমান, এ এফ এম ইকবাল, আলী আশরাফ, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করেন ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু। আরও দুই ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও ইনাম আহমেদ চৌধুরী দল ত্যাগ করেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম এফসিএও ছাড়াও কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির খান, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আসগর লবী, মেজর (অব.) হানিফ পদত্যাগ করেন।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে আলোচনায় রয়েছেন আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, মোহাম্মদ শাহজাহান, রুহুল কবির রিজভী, জহির উদ্দিন স্বপন এবং জয়নাল আবেদীন। ভাইস চেয়ারম্যানের শূন্যপদগুলোতে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আমানুল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, শাহিদা রফিক, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সালাউদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন ও ফজলুল হক মিলন।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুগ্ম মহাসচিব পদমর্যাদায় দপ্তরের দায়িত্বে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদে বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ এর নাম আলোচনায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেতারা এসব শূন্যপদ পূরণে জোরালো দাবি তুলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ দুজন নেতা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের শীর্ষ নেতা (তারেক রহমান) চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গঠনতন্ত্র তাকে সে ক্ষমতা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি চাইলে নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণ করতে পারেন। কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থায়ী কমিটিসহ সব শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে, তবে এখনই ঘোষণা নয়। সব পদ চূড়ান্ত হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

কেএইচ/ইএ/এএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]