মন্ত্রী-এমপিরা সংবিধান অমান্য করলে বিচার হওয়া দরকার: নজরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

শপথ নিয়ে এমপি-মন্ত্রী হয়ে যদি কেউ সংবিধান অমান্য করে তাহলে তার তাৎক্ষণিক বিচার হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শ্রমিকদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানে লেখা আছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, কিন্তু আমরা কী অদ্ভুত এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেই রাষ্ট্রের একজন মন্ত্রী বলেন আমি মানি না। মন্ত্রী, এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন সংবিধান সুরক্ষার জন্য। তারা যদি সংবিধান অমান্য করেন তাৎক্ষণিক তার বিচার হওয়া দরকার।

‘কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই বিচার না করার ফলে শুধু মন্ত্রী না সংবিধান অমান্যের অভিযোগে এই সরকার অভিযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সে জন্য তারা লজ্জিতও হবে না ও সংবিধান অনুযায়ী যেটা করা দরকার পদত্যাগ সেটাও করবে না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, একটি দল এ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। সেখান থেকে আমাদের নেতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আবার আমাদের দেশে এক সামরিক স্বৈরশাসক গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। দীর্ঘ নয় বছর আপসহীন লড়াই করে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুনরায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা সেই দল যেই দল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছি এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কল্যাণের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশ এমন একটি দল শাসন করছে যারা এক নির্বাচনে ৩০০ এর মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নিজেদেরকে নির্বাচিত করেছেন। আরেক নির্বাচনে ভোটের দিনের আগের রাত্রে তারা ভোটের বাক্স ভর্তি করে ফেলেছে। এরা যতোদিন ক্ষমতায় থাকবে ততোদিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের ভোটের যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেই অধিকার ফিরে আসবে না। ততোদিন পর্যন্ত জনগণ তার পছন্দের সরকার নির্বাচিত করতে পারবে না।

নজরুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা কোনো ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করি না, উশৃঙ্খলতায় বিশ্বাস করি না, কোনো সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। আমরা গণ আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটিয়েছি, ৬৯ -এ যেভাবে আইয়ুব খানকে হটাতে পেরেছি ঠিক একইভাবে ইনশাআল্লাহ এই সরকারকেও হটাতে পারবো।

শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মুজিবুর রহমান সাগর, সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, শ্রমিকদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান খান, যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাফিজুল করিম মজুমদার প্রমুখ।

কেএইচ/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]