আমরা ধর্মপ্রাণ হতে চাই, ধর্মান্ধ নয়: হানিফ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৫ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

ধর্মান্ধের মাধ্যমে সমাজকে কলুষিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, আমরা ধর্মপ্রাণ হতে চাই, ধর্মান্ধ হতে চাই না।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘গৌরব ৭১’ নামে একটি সংগঠন এই সমাবেশ করে।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে ধর্মকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, নির্যাতন করা হয়েছিল মা-বোনদের ওপর। আজকে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেটা কখনো বরদাস্ত করার মতো নয়।

গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য জারিসারি-ভাটিয়ালি গানের বদলে এখন সমাজের মধ্যে ওয়াজ মাহফিলের নামে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা জায়গা করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, দীর্ঘকাল ধরে আমাদের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা সম্প্রীতির বন্ধন ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য। আজকে গ্রামে যাত্রা নেই, নাটক নেই, পালাগান নেই, জারিসারি, ভাটিয়ালি, পুথিগান এগুলো উঠে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সব। এখন সমাজের মধ্যে তার বদলে জায়গা করে নিয়েছে ওয়াজ মাহফিলের নামে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমি দেখলাম বিএনপির মহাসচিব বক্তব্য দিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজের মধ্যে ঘটনাগুলো ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে।’ কি নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। কারা এই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে?

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিলেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষ রক্ত দিয়েছিলেন উল্লেখ করে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন,৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ আজকে আমাদের মধ্য থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। অঙ্গীকার করতে হবে আমরা এ বাংলাদেশ থেকে ধর্মান্ধ-জঙ্গি গোষ্ঠীর চিরতরে নিপাত করতে চাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উস্কানি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধমন্দির, নাসিরনগর, পাবনার সুজানগরসহ সুনামগঞ্জের শাল্লায় যেসব লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল সেগুলোর বিচার এখনো শেষ হয় নাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ করবো, দ্রুত এই ঘটনাগুলোর বিচার করুন। এই ঘটনাগুলোর বিচার বিলম্ব হওয়ার কারণে বারবার মৌলবাদী শক্তিগুলো হামলা করার সাহস পাচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]