মণ্ডপে হামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপে হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে যে মামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি দাবি করেন, সরকারের সংস্থার পরিকল্পনায় সারাদেশে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সাত-আটদিন আগে থেকে সরকার এমনভাবে মিথ্যা, সাজানো, গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করলো যে, প্রার্থীসহ কর্মীদের গ্রেফতার করা হলো। সকল নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মাঠ খালি করে আগেরদিন রাতে ভোট করে নিয়ে যাওয়া হলো। এবার তারা আগে থেকেই অতিদ্রুত মামলাগুলো শেষ করতে চায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা করেছে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং নেতারা যেন নির্বাচন করতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার উৎসবকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অনেকগুলো পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ গুলি করেছে, কয়েকজন মারা গেছে।

প্রত্যেকটি ঘটনায় সরকারি দলের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রংপুরে দেখা গেলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতারা এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। চারটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুমিল্লায় পাগল ইকবাল বলে একজনকে সাজিয়েছে। বলা হচ্ছে সে নাকি কোরআন শরিফ নিয়ে মণ্ডপে রেখেছে। যেগুলো কোনোমতে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি প্রথমদিন থেকে বলেছি সরকারের এজেন্সিগুলো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছে। মূল উদ্দেশ্যে হলো জনগণের ভাতের সংকট, ভোটের সংকট, বাকস্বাধীনতার সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির সংকট, এসব থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে।

চৌমুহনীতে ২৩টি মামলায় সাত হাজার ৯৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই মামলা শেষ হবে কবে? এগুলোতো শেষ হবে না। উদ্দেশ্য হলো- এই মামলাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে তাদের হয়রানি করা এবং একটা বড় গ্রেফতার বাণিজ্য করা।

পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ৬০ মামলায় ১৫ হাজার ৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে তথ্য দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির ১৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই বরকত উল্লাহ বুলুসহ বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর নামে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে তাদের এই ঘটনার সঙ্গে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা নেই। এই মামলাগুলো দিয়েছে শুধু তাদের হয়রানি করা, রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করা, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বেই যেন বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে একদম সরিয়ে দেওয়া যায়, মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে, এজন্যই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দিতে হবে এবং সুষ্ঠূ তদন্তের মাধ্যমে যারা দায়ী তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। বিএনপি সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]