সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে জড়িত বড় নেতাও শাস্তি পাবেন: হানিফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

রাজনীতির জন্যই ধর্মকে ব্যবহার করে সহিংসতা হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিলেন জিয়া, এরশাদ পরিচর্যা করেছেন। খালেদা জিয়ার সময়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের ফলে শেকড় গভীরে পৌঁছে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গৌরব ৭১’ আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনায় বিএনপি জড়িত, এটা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। সারাদেশে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছে। জড়িতরা যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, দরিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে মাদরাসাগুলো শিশু-কিশোরদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে। এজন্য মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়পোযোগী করা দরকার। দেশের লোকসংস্কৃতির স্থলে ওয়াজ জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা।

এসময় ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হানিফ। তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষী হয়ে মানুষ অপরাধ করে, ধর্মান্ধ হয়। দেশের মানুষের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, যেখানে ধর্ম মানুষকে মানবিক হতে শেখায়, সেখানে ধর্মের নামে সহিংসতা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে হয় তা খুঁজে বের করতে হবে।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে একমুখী শিক্ষা প্রয়োজন। দলের মধ্যে আদর্শিক রাজনীতির অভাব হওয়ায় আদর্শহীন অনুপ্রবেশকারীরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মননে লালন করে। এদের প্রতিহত করতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কিন্তু ধর্মহীনতা নয়। সাধারণ মানুষের কাছে এ সত্য পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আপসের নামে ধর্ম ব্যবসায়ীদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের দলে জায়গা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ আজ হুমকির সম্মুখীন।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, শিশুকাল থেকেই সব ধর্মের পরমতসহিষ্ণুতা শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় গোঁড়ামি ত্যাগ করে মূল্যবোধ চর্চা করতে হবে, তবেই ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার দূর হবে।

এসইউজে/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]