দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে: মেনন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, শেখ হাসিনার এই তিন টার্মের দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। সব সূচকে ঘটছে অগ্রগতি। সব সূচকে পাকিস্তানকে আমরা ছাড়িয়ে গেছি। জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। কিন্তু দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাতে।

করোনায় দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে প্রথম। গড় জাতীয় আয় বাড়লেও জনগণের আয় কমেছে। কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও ৫ লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের দারিদ্র সীমার হার ২০ শতাংশে কমিয়ে এনেছিলেন, কিন্তু করোনার দুই বছরে নতুন দরিদ্র হয়েছে দুই কোটি ৬০ লাখের ওপরে। অর্থমন্ত্রী এই বেসরকারি হিসাব স্বীকার করেন না। সরকারি কোনো হিসাবও নেই।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নীতি নির্ধারণে অংশ না নিয়েও সরকারের দায় বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ১৪ দলের শরিক দলটির সংসদ সদস্য।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ১৪ দল গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান পর্যায়ে এসেছি। নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এর ভিত্তি ছিল অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য। আমাদের জোট আছে। ১৪ দলে আছি। তবে কেবল দিবস পালনে। নীতিনির্ধারণে কোনো অংশ নয়। সরকারের দায় আমাদেরও বহন করতে হয়। আওয়ামী লীগের কাছে ১৪ দলের অথবা অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ঐক্যের প্রাসঙ্গিকতা আছে কি না জানি না।

বিগত টার্মে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য মেনন বলেন, বাংলাদেশের সামনে ধর্মীয় মৌলবাদের যে বিপদ বর্তমান, উন্নয়নের সঙ্গে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার যে বিপদ বিদ্যমান, দুর্নীতি-বৈষম্য-সাম্প্রদায়িকতা, সম্পদ আর ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন আর কর্তৃত্বে যে বিপদ বিদ্যমান তার থেকে মুক্ত করতে আজকে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়ন বনাম গণতন্ত্র নয়, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে, সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে হবে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, স্বাস্থ্যখাত অব্যবস্থাপনায় নিমজ্জিত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড মোকাবিলা করে গেছেন। কিন্তু কোভিডের আরেকটি ঢেউ এলে কতখানি সামাল দেওয়া যাবে তা জানা নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করতে হবে। কোভিডের কারণে শিক্ষাখাতে বেহাল অবস্থা। একমুখী শিক্ষার নামে বিএনপি আমলে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে হয়।

রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিয়ে উষ্মা প্রকাশে করে তিনি বলেন, আমরা আজকে লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এখন সামরিক-বেসামরিক আমলা-ক্ষুদ্র ধনী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু আমলাতন্ত্রকে জনপ্রতিনিধিদের অধীনস্থ করেছিলেন। এখন জনপ্রতিনিধিরা আমলাতন্ত্রের অধীন। তারা রাজনীতিকদের ‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত’ বলতে দ্বিধা করে না। কেবল তাই নয়, তারা বলেন, তারাই দেশ পরিচালনা করবেন। ব্যবসায়ীদের রাজনীতি করতে বাধা নেই। কিন্তু রাজনীতি যখন ব্যবসা হয়ে দাঁড়ায় তখন আপত্তি থাকবেই। এই সংসদে আমরা তার প্রমাণ পাচ্ছি। রাজনীতি আর রাজনীতিকদের হাতে নেই।

মেনন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গৌরববোধ আছে। সেই গৌরববোধ আমাদের যুবকদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল। সেটা শাহবাগ আন্দোলনে দেখেছিলাম। যার বিরুদ্ধে ধর্মবাদীরা আক্রমণ করে। আমরা এবার কী দেখলাম? সেই গৌরববোধ আর তরুণদের মধ্যে নেই। আমরা সঞ্চারিত করতে পারিনি। এ কারণের ক্রিকেট মাঠে পাকিস্তানের ধ্বনি ওঠে। পাকিস্তানি পতাকা ওড়ান হয়। এটা পরিকল্পিত কি না সেটা আমি জানি না। তবে এটা আমাদের ব্যর্থতা সেটা স্বীকার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠ সময়। স্বাধীনতার এই ৫০ বছর আমাদের জন্য গৌরবের। এই সময় অগৌরবের ঘটনাও ঘটেছে। এই ৫০ বছরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছি।

মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বাংলাদেশ একটি আদর্শিক রাষ্ট্র হবে। এর ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মের হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ। এদেশের হিন্দু-মুসলমান ও কৃষক-শ্রমিক সুখে থাকবে। শান্তিতে থাকবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সব ধর্মের সমান অধিকারের কথা। রাষ্ট্রে কোনো ধর্মের প্রাধান্য পাবে না। জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসক এই ধর্ম নিরপেক্ষতাকে উড়িয়ে দিয়েছিল। ফিরিয়ে এনেছিল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি পাকিস্তানি ধারাকে। ফিরিয়ে এনেছিল যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে। আরেক সামরিক শাসক এরশাদ ধর্মের চূড়ান্ত ব্যবহার করতে ভোটারবিহিন সংসদে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতাসহ চার মূলনীতি আমরা ফিরিয়ে এনেছি।

এইচএস/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]