জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী উলামা পরিষদসহ সমমনা ১৩টি ইসলামী দল।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন থেকে দলগুলোর নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান।

এ সয় তারা রাজারবাগ শরীফের বিরদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব ১৯৭১ সালে ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। ওনার আপন ভাই ও ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন তিনি যেন জামাত-জঙ্গিবাদবিরোধী হক্ব দরবার শরীফ, রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।

তারা বলেন, হাইকোর্ট এবং আইনমন্ত্রীর নামেও রাজারবাগ শরীফকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। প্রচার করা হয়েছে, ‘রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের’। প্রকৃতপক্ষে এ রকম কোনো নির্দেশই দেননি হাইকোর্ট। ১০ অক্টোবর আইনমন্ত্রীর এক অনুষ্ঠানের বরাত দিয়ে রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যে, ‘রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর’। অথচ এই সংবাদের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, রাজারবাগ শরীফ নিয়ে এ রকম কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।

বক্তারা আরও বলেন, কোথাও সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে ৪৯ মামলা, কোথাও ৮০০ মামলা। কোথাও ৭ হাজার একর, কোথাও ৬ হাজার একর, কোথাও ৩ হাজার একর, আবার কোথাও ১ হাজার একর জমি দখল। মূলত এসব তথ্যের বৈপরিত্যই প্রমাণ করে যে, এ সবই জঙ্গি-জামাতবিরোধী শতভাগ সুন্নতি আমলের হক্ব দরবার শরীফ রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

নেতাকর্মীরা বলেন, একটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরবার শরীফের পিছনে ৩ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা বাড়ি দখলের জন্য কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত সত্য হলো, রাজারবাগ দরবার শরীফের পিছনে ৩ শতক জায়গায় কোনো বাড়িও নেই এবং কোনো তিনতলা বিল্ডিংও নেই। এটা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

‘রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটাই বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। মানবাধিকার কমিশনের সম্পূর্ণ রিপোর্টে কোথাও রাজারবাগ শরীফের কোনো বক্তব্য নেই, রাজারবাগ শরীফের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং কোনো কিছু জিজ্ঞাসাও করা হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

আল্লামা শোয়াইব আহমদের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাইতুল মোকাররম মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন মাওলানা ক্বারী কাজী মাসউদুর রহমান, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আ. সাত্তার, বাংলাদেশ ওলামা লীগের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুস সবুর কাঞ্চনপুরী, মুহম্মদ আল আমিন কুরাইশী, মাওলানা মোকাম্মেল হোসেন, মাওলানা রফিকুল আলম সিদ্দিকী আল কুরাইশী, মাওলানা সৈয়দ ওমর ফারুকসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত ১৩টি সমমনা দলের নেতৃবৃন্দ।

এইচএস/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]