আওয়ামী লীগ পালানোর পথ পাবে না: হাফিজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৬ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে ছিল ভারতে আর এখন পালানোর জন্য কানাডা, আমেরিকা, মালয়েশিয়ায় বাড়ি বানিয়েছে। এই সুযোগ নাও পেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধাদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ বলেন, ১৯৭১ সালে কেমন ছিল বাংলাদেশ? তখন কি এভাবে চলাফেরা করতে পারতেন? এই ঢাকা শহরে এখন কি আপনারা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন? তখন প্রতিনিয়ত চিন্তা করতে হতো কখন যেন খুন হয়ে যাই, গুম হয়ে যাই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আজও আমরা ভীতসন্ত্রস্ত। কথা বলার স্বাধীনতা নাই। বাকস্বাধীনতা নাই। সবসময় ভয়ে থাকি কখন গুম হয়ে যাই। তাহলে কোথায় সে স্বাধীনতা?

তিনি বলেন, এই দেশ কি স্বাধীন হয়েছে আওয়ামী লীগের লুটপাটের জন্য? কানাডা, আমেরিকা মালয়েশিয়ায় বেগমপাড়া বানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে ছিল ভারতে আর এখন পালানোর জন্য কানাডা, আমেরিকা, মালয়েশিয়ায় বাড়ি বানিয়েছে। পরিবার-পরিজন আগে পাঠিয়ে দিয়েছে, কোনো রকম বর্ডার পার হয়ে মাসির দেশে যেতে পারলেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। এই সুযোগ নাও পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা কখনো ভাবেও নাই এ দেশের জনগণ প্রতিরোধ করতে পারবে। কিন্তু প্রতিরোধ করেছে। তেমনি এই নিশিরাতের সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। পাকিস্তানিরা যেমন টিকতে পারে নাই, তেমনি এই নিশিরাতের সরকারও টিকতে পারবে না।

এই সরকার স্বৈরাচারী সরকার, ফ্যাসিবাদি সরকার, এটা আমেরিকাও স্বীকৃতি দিয়েছে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১১০টা দেশকে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমেরিকা ডেকেছে কিন্তু বাংলাদেশকে ডাকে নাই। ভারতকে ডেকেছে আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এখানে দুর্বল গণতন্ত্রের দেশকে ডেকেছে। ভারত কি দুর্বল গণতন্ত্রের দেশ? ভারত নাকি আমাদের স্বামী, আমরা তাদের স্ত্রী। স্বামী দেবতা তো ক্ষিপ্ত হয়ে যাবে, এ ধরনের কথা বলবেন না। স্বৈরতন্ত্র চালিয়েছেন, কিছু দিন চলবে, বেশি দিন চলবে না।

আওয়ামী লীগকে পুলিশ ছাড়া বিএনপির মুখোমুখি হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

জাতীয়বাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয় সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, জাতীয়বাদী মুক্তিযুদ্ধদলের সাধারণ সসম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

কেএইচ/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]