‘খালেদার চিকিৎসা ইস্যুতে দৃষ্টি সরাতে পরিবার নিয়ে কথা বলা হচ্ছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে দৃষ্টি ফেরাতে তার পরিবার নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের পক্ষ থেকে কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মতোই আচরণ আশা করে। কিন্তু এই আচরণটা বেগম খালেদা জিয়া পায়নি।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা একের পর এক কথা বলে জনমত সৃষ্টি করছি। জনমত প্রচণ্ডভাবে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। তারপরও আমরা কেন কিছু করতে পারবো না? আমাদের অনেক কিছু করার আছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদেরকে অনেক দিয়েছেন। তার পতাকা নিয়ে, তার নাম নিয়ে আমরা নির্বাচনে পাস করেছি। তিনি আমাদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন, পার্লামেন্টারি সিস্টেম দিয়েছেন, মানুষের কথা বলার অধিকার দিয়েছেন, এই দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছি, এমপি-মন্ত্রী হয়েছি। এখন আমাদের দেওয়ার পালা।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন, সুচিকিৎসার আন্দোলন দুর্বার হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার তা সহ্য করতে পারছে না। যার কারণে আমাদের দৃষ্টিকে, আমাদের কথাবার্তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জিয়া পরিবারকে নিয়ে কথা বলছে। এরা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরাতে চায়। আমাদের কথা পরিষ্কার, আমাদের দৃষ্টি এক দিকে। তা হচ্ছে দেশনেত্রীর মুক্তি, সুচিকিৎসা।

এসময় দলের কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আপনারা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আবেগ নিয়ে এখানে এসেছেন। যে আবেগ প্রকাশ করেছেন, সেই আবেগকে আগুনে রূপান্তরিত করতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার দুই-তিনদিন হাসপাতালে দেখা হয়েছে। হাতের ইশারায় কথা হয়েছে। উনি ভালো অবস্থায় নেই।

তিনি বলেন, একবার আমি বলেছিলাম, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মতোই আচরণ আশা করে। কিন্তু এই আচরণটা বেগম খালেদা জিয়া পায়নি। কথা বলার পরে আমার পাশ থেকে একজন বললো, ‘ভাই আপনার কথা একটু কারেকশন করতে হবে।’ আমি বললাম সেটা কী? তিনি বললেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) অবৈধ প্রধানমন্ত্রী আর যে সাবেক সে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং আচরণ এক রকম পাবেন না।’ এ কথাটা আমার কাছে খুবই যৌক্তিক মনে হলো।

খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা কোনো মামলা-ই না। কথা হচ্ছে বিএনপির ওপর অত্যাচার করতে হবে, বিএনপিকে ধ্বংস করতে হবে। সুতরাং একমাত্র খালেদা জিয়াকে ধ্বংস করলে বিএনপি ধ্বংস হবে।

খালেদা জিয়া ইস্যুতে বিএনপিপন্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থান পরিবর্তন করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সমাবেশ করা হয়। এতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেক জনপ্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, শাহে আলম, আবু সাইদ চাঁন, দেওয়ান শফিকুজ্জামান, তমিজ উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, দিলদার হোসেন, জাফর ইকবাল হিরণ, আমিনুল ইসলাম বাদশা, সরকার বাদল, মোর্শেদ মিল্টন, মশিউর রহমান, নবী নেওয়াজ খান, জয়নাল আবেদিন, আতাউর রহমান আতা, আসিক চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক চেয়ারম্যান (ঝিকরগাছা উপজেলা) সাবিরা খাতুন মুন্নি। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ আক্তার ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মেয়র আব্দুল হাই মনা বিশ্বাস।

কেএইচ/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]