তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী তা জানতে চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথা বলছেন ডা. মুরাদ। তিনি একজন ভুঁইফোড়, ডাক্তার ছিল শুনেছি, সম্ভবত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর। এটাও শুনেছি সে নাকি একসময় ছাত্রদল করতো। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকাল সে ছাত্রলীগে জয়েন করে। ধিক্কার দেই আমি তাকে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘মারাত্মক হচ্ছে- ওই বক্তব্যের (তথ্য প্রতিমন্ত্রীর) শেষের অংশ। সে বলেছে, আমি যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করছি এবং তিনি সব কিছু জানেন। আমি আজকে এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্টভাবে প্রশ্ন করতে চাই-এই কথা সত্য কি মিথ্যা আপনাকে জানাতে হবে, কারণ আপনি প্রধানমন্ত্রী। এ দেশের মানুষের নিরাপত্তা, তার নিজের মর্যাদাকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে এই ভয়াবহ উক্তি মিডিয়ার উদ্দেশে একজন মন্ত্রী করতে পারে তাহলে আপনার সরকারের অবস্থান কী আমরা জানতে চাই। এর উত্তর দিতে হবে। কারণ আপনাকে জড়িয়ে এই কথা বলা হয়েছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা তাদের চরিত্র। এই যে বর্ণবাদী কথা, এই যে নারী বিদ্বেষী কথা। আমার বোনদের অনুরোধ করবো তাদের প্রতিবাদ জানানো উচিত। আজকে আমি ধন্যবাদ জানাই কয়েকজন নারী নেত্রীকে তারা আজকে প্রতিবাদ করেছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। এর বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই যে নব্বইয়ের আন্দোলন, সেই আন্দোলন সফল হয়েছিল তখনই, যখন সব শক্তিগুলো এক হয়েছিলো, যখন গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়েছিলো তখনই সেদিন স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটেছিলো।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের দেখুন কী অবস্থা। আমি অভিনন্দন জানাই আমার সেই তৃতীয় লিঙ্গের ভাই বা বোনকে, যার হাতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা পরাজিত হয়েছে। এর চেয়ে বড় কৃতিত্ব হতে পারে না।’

খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রী আজকে বন্দি, সেই নেত্রীর চিকিৎসা হচ্ছে না। ডাক্তাররা যখন বলেছেন, যে তার চিকিৎসা আমাদের হাতে শেষ। এখন বাংলাদেশে এমন কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র নেই যেখানে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। সেটা একমাত্র আছে বিদেশের উন্নত সেন্টারে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নব্বইয়ের সাবেক ছাত্র নেতার মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, শ্রমিক দলের মুস্তাফিজুল করীম মজমুদার, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেএইচ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]