ইসি গঠনে গণফ্রন্টের ১৪ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২২
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ শেষে কথা বলছেন গণফ্রন্ট চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাতীয় নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দলের সংসদে প্রতিনিধি ছিল সেসব দলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছে গণফ্রন্ট।

সেইসঙ্গে সরকার নির্বাচনে যাতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেজন্য সুস্পষ্ট ঘোষণাসহ ১৪ দফা প্রস্তাব করেছে দলটি। এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠনে পাঁচ সদস্যের নামও প্রস্তাব করেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর সংসদ নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল সেসব দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে। তবে বিতর্কিত সংসদ নির্বাচন বাদে জাতীয় সরকারের প্রধান থাকবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত এবং সুসংহত করার লক্ষ্যে সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টের সাবেক সিনিয়র বিচারপতি, সাবেক সিনিয়র সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান অথবা সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসি গঠিত হতে পারে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তি।

তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলেছি যে নির্বাচন কমিশনকে আপগ্রেড করতে হবে। আমরা মনে করি, কমিশনে ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কাউকে পদায়ন করা হলে কমিশন আপগ্রেড হবে না। নির্বাচন কমিশনে মেজর জেনারেল বা জেনারেল লেভেলের কাউকে দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশন আপগ্রেট হলে সিদ্ধান্ত দিতে তারা সাহস পাবে। রাষ্ট্রপতি এটিকে ভালো প্রস্তাব বলেছেন।

নির্বাচন কমিশন আইনের দাবি তুলে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। সব মহল নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।

গণফ্রন্টের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১। নির্বাচন কমিশন গঠনে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। সব মহল নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।

২। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত এবং সুসংহত করার লক্ষ্যে সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

৩। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৪। নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের সাবেক সিনিয়র বিচারপতি, সাবেক সিনিয়র সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান অথবা সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে।

৫। নয় সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা যেতে পারে এবং তিনজন নারী কমিশনার নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

৬। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের বয়সের একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে।

৭। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগপ্রাপ্তদের সম্পদ বিবরণী প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

৮। বিদেশি নাগরিকত্ব আছে এমন কাউকে নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

৯। দেশের বাইরে অবৈধ উপায়ে অর্জিত নামে-বেনামে কোনো সম্পদ থাকলে তাকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

১০। একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় অর্থ এবং লোকবলের যোগান দিতে হবে।

১১। সরকার নির্বাচনে যাতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেজন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে।

১২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সংলাপে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ ‘নির্বাচন কমিশন’ গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যক্তিবর্গের নামের যে প্রস্তাব দেবেন, তাদের মধ্যে যাদের নাম বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় থাকবে, তারাই নির্বাচন কমিশনে যাবেন।

১৩। সংলাপ বর্জন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দেশ ও জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে দুর্নীতিবাজদের বাদে সমঝোতা অপরিহার্য।

১৪। নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। ১৯৭১ সালের পর সংসদ নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল সেসব দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠিত হতে পারে। তবে বিতর্কিত সংসদ নির্বাচন বাদে জাতীয় সরকারের প্রধান থাকবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া দলটির প্রস্তাবিত পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে রয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিম চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌফিক হোসেন, সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার, সাবেক সচিব মূর্তজা হোসেন মুন্সি, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সিদ্দিকুর রহমান।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির কার্যকরী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আকমল হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কনিকা মাহফুজ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আজমল হোসেন, মহাসচিব অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী শেখ, অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা ও মহিলা বিষয়ক উপদেষ্টা মিসেস ওবাইদা হক প্রমুখ।

আরএসআম/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]