ইভিএম বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে: গয়েশ্বর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২২

আগামী নির্বাচনের আগেই ইভিএম বাক্স বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, সুচিকিৎসা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে জিয়া নাগরিক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নারায়ণগঞ্জকে তারা উদাহরণ সৃষ্টি করতে চান। তারা মনে করেন নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আমার একটা কথা মনে হয়, এই সরকারের নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়- এই কথা শুনলে পশুপাখি-জানোয়ারও বিব্রত বোধ করে। সরকার বিব্রতবোধ করে না কেন? আগামী নির্বাচনের আগেই এই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বাক্স বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, করোনাকে সরকার যখন রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে নেয় তখন তো এটার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার দাবিতে যেভাবে সারাদেশে গণজোয়ার শুরু হয়েছে তাতে সরকার বিধিনিষেধ, ১৪৪ ধারা দিচ্ছে। সরকার ভীত-সন্ত্রস্ত। বিএনপির শক্তি সরকার পরিমাপ করতে পেরেছে। সরকার যে জনরোষে পড়েছে তা মোকাবিলা করতেই করোনাকে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করেছে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ মনে করে, এই বিধিনিষেধ রাজনৈতিক আন্দোলন মোকাবিলা করার জন্য দেওয়া হয়েছে, জনস্বাস্থ্য বিবেচনা করে নয়।

এই বিএনপি নেতা বলেন, আমাদের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি বলেছেন আমেরিকায় লক্ষাধিক লোক প্রতিবছর নিখোঁজ হয়। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, বাংলাদেশের অপকর্মের জন্য যদি আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে আর আপনি যখন নিশ্চিত আমেরিকাতে এ রকম ঘটনা ঘটে- তাহলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছি না কেন? আর আমেরিকাতে যেটা ঘটে সেটাই বাংলাদেশে ঘটবে এটাকে জায়েজ করার চেষ্টা কেন করেন?

গয়েশ্বর বলেন, কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে কিছু বিলাপ-প্রলাপ হলো। পরে সরকারি দলই আইনের প্রস্তাব করলো। মাঝখানে আইনমন্ত্রী বললেন, আইন তো জটিল ব্যবস্থা। এত তাড়াতাড়ি করা যাবে না। এখন শুধু আইন না, ইতিপূর্বে নির্বাচন কমিশন যা যা করেছে তার সবকিছুর বৈধতাও দিয়েছে এই আইনের মাধ্যমে। কিন্তু তারা এতদিন যা করেছেন তা বেআইনি। এখন একটা আইনি প্রলেপ দেওয়া হলো। অর্থাৎ এতদিন বিনা কাবিনে সংসার করছেন, এখন কাবিন করা হলো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা বিদেশে চলে যায়, রিজার্ভ চুরি হয়। আজ পর্যন্ত কেউ ধরা পড়ে না। এই সরকার রিজার্ভ চুরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত, না হলে কাউকে ধরার চেষ্টা করে না কেন? কত খুনের আসামি ধরা পড়ে, সাগর-রুনির আসামি ধরা পড়ে না কেন? এই রিজার্ভ চোর, খুনিদের প্রশাসন চেনে কিন্তু ধরে না।

জেলকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, পুরো দেশটাই যখন জেলখানা সেখানে ছোট্ট একটা কক্ষে যেতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পালাক্রমে এখানে অনেকেই আসবে, বের হবে।

তিনি বলেন, সামনে জেলখানা আরও বড় করতে হবে। কারণ পরে যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা এত চোর, খুনি, সন্ত্রাসীদের এই জেলখানায় জায়গা দিতে পারবে না। তাই জেলখানা বড় করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাবু টানানো হবে।

আমাদের এখন আর জেলে যাওয়ার পালা না, এখন জেলে যাওয়ার পালা তাদের- যোগ করেন তিনি।

জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

কেএইচ/এএএম/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]