‘ভোট এলে ধর্মকে ব্যবহার করে বিএনপি, ধর্মের জন্য কাজ করে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

আওয়ামী লীগ সব ধর্মাবলম্বী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন এলে ধর্মকে ব্যবহার করে, কিন্তু ধর্মের জন্য কোনো কাজ করে না। বরং তারা ধর্মীয় হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ধর্মকে ব্যবহার করে না। আমরা ইসলামের জন্য, আলেম- ওলামাদের খেদমতের জন্য কাজ করি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার যাতে সুনিশ্চিত হয় সেজন্য কাজ করি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার-২০২১ ও করোনা সচেতনতা আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা যাতে এদেশে কেউ খর্ব করতে না পারে সেজন্য আমরা কাজ করি। তাদের ধর্মের কল্যাণের জন্যও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাজ করা হয়। কারণ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ধর্মপ্রাণ জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের জন্য যতো কাজ করেছেন, এদেশে আর কারও আমলে তা হয়নি। দেশের আলেম সমাজের শতবর্ষের পুরোনো দাবি ছিলো একটি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান আমলেও তা পুরণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবতা।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, এরশাদ কেউই কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি দেননি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। সব অপপ্রচার ঘুচিয়ে তাদেরকে চাকরিও দিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। অনেক জেলা এবং উপজেলায় মসজিদ ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে, উদ্বোধনও হয়েছে। আমরা ১৩ বছর আগে সরকার গঠনের পূর্বে বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি মসজিদভিত্তিক মক্তব ছিল। তখন সেখানে আলেমরা ভাতা পেতেন ৫০০ টাকা। শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর প্রায় দুই লাখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠা হয়েছে। প্রতি মক্তবে একজন আলেম পাঁচ হাজার ২০০ টাকা করে ভাতা পান। এটি কেউ কখনো ভাবেনি।

বিএনপি-জামাত ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল, তারা এই কাজগুলো করে নাই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে ধর্মবিরোধী স্লোগান দিয়ে, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে ভোটগুলো নিজের বাক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যার নিজের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পবিত্র ইসলামের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। ইসলামী ফাউন্ডেশন তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে মদ, জুয়া, হাউজি এগুলো তিনি বন্ধ করেছিলেন, যেগুলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান ফের চালু করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সব ধর্মের কল্যাণে কাজ করছেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমদুল্লাহ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। অতিথিরা দেশব্যাপী কিরাত প্রতিযোগিতা ‘কোরআনের সুর’- এ নারায়ণগঞ্জ জেলার সেরা প্রতিযোগীদের ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমাজসেবী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার তুলে দেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির পক্ষ থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

আইএইচআর/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]