গণতন্ত্রের নিখাদ শত্রু বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের/ ফাইল ছবি

বিএনপিকে গণতন্ত্রের নিখাদ শত্রু বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি যতই পোশাকি গণতন্ত্রের আবরণে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিজেদের লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন, জাতির কাছে তাদের স্বরূপ অনেক আগেই উন্মোচিত।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ‘নির্বাচন কমিশন ও সার্চ কমিটি’ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের মধ্যে কোনো আবেদন তৈরি করতে না পেরে বা জনস্বার্থে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ না করে বিএনপি নেতারা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে লাগাতারভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে উন্মত্ত বিএনপি নেতাদের এমন নির্লজ্জ ও বেপরোয়া আচরণ বরাবরের ন্যায় জাতি এখনও প্রত্যক্ষ করছে। ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার ছাড়া বিএনপির কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি তার রাজনৈতিক নীতির উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করতে পারেনি। বরং অপরাজনীতির হাতিয়ারগুলোকে শাণিত করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপকৌশল গ্রহণ করছে এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করে চলেছে।

‘তারই অংশ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে সার্চ কমিটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আশা রাখি, সার্চ কমিটির সদস্যরা তাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সক্ষম হবেন। সার্চ কমিটির অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কার্যপ্রণালী সমাপ্ত করার পূর্বেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সার্চ কমিটি নিয়ে লাগামহীন মন্তব্য করে চলেছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় সার্চ কমিটি গঠন হয়। রাষ্ট্রপতির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন এবার একটি সুর্নিদিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। অথচ আমরা দেখেছি, ২০০৫ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন অবস্থায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কীভাবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বিচারপতি এম এ আজিজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন! গণতান্ত্রিক রীতিনীতি তো দূরের কথা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করা বিএনপির কাছে বর্তমানে ইসি গঠনের গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে তামাশা বলেই মনে হবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ধ্বংস হয়েছে অসাংবিধানিক ও অবৈধ উপায়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

এর বিপরীতে এদেশের মানুষের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এদেশের জনগণ পুনরায় নসাৎ হতে দিবে না। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে কোনো মূল্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

এসইউজে/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।