সরকারের আছেটা কী, শুধু পুলিশ: গয়েশ্বর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ২৪ মে ২০২২
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

সরকারের আছেটা কী? শুধু পুলিশ- মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘৭১ সালে পুলিশ-আর্মি মানুষ মারছে, কিন্তু তাদেরই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। আর পুলিশ কখনো জনগণের দাবির বিপক্ষে যায় না। আমরাই তো ঠিক মতো রাস্তায় নামতেছি না, পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ কী? অকারণে আমরা ভয় পাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে দলের যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসলাম চৌধুরী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দুষ্টুমি করেই হোক বা এমনি হোক একজনকে টুস করে ফেলে দেওয়া, আরেকজনকে চুবানো- এটা তো হত্যার হুমকি। অ্যাটেম্পট টু মার্ডার।

তিনি বলেন, আমাদের যে এত আইনজীবী ফোরাম আছে তারা কি এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। করে নাই। আর আমরা কোনো কথা বললে দেশের আনাচে কানাচে খালি মামলা-ই হয়।

সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি জানি আদালতে গেলে এই মামলা (সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলে) টিকবে না। যে দেশের আদালত সরকারের অপকর্মকে লালন-পালন করে, সাফাই গায়, যে দেশে সরকারের দুর্নীতি, মুদ্রাপাচার, নারী নির্যাতন থেকে খুন-গুম নিয়ে টেলিভিশনের টকশোতে লোক ভাড়া করে সাফাই গায়, সেই দেশে আমরা কোন অবস্থায় আছি সেটা বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, এখন যদি আমরা হাশরের ময়দান পর্যন্ত অপেক্ষা করি তাহলে চলবে না। পৃথিবীতে আপনার দায়িত্ব আপনাকেই পালন করতে হবে। এখানে শুধু আসলাম চৌধুরীর মুক্তি পাওয়া বড় কথা না। গোটা জাতিই তো বন্দি। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি করতে পারলে তো তিনি নিজেই আপনার সামনে এসে দাঁড়াবেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনটা কেমন হলো- প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ১৪শ ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট যান নাই। ভোটের বাক্স ভর্তি হয়ে গেছে। তারপর ১৫৩টা সিট আগের থেকে নাই। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনাই। বিএনপি পারে নাই? ওই না পারাটাই শেষ, তারপর কি চেষ্টা করছি আমরা? কেন করলাম না?

তিনি বলেন, আমরা নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তার জন্য আমাদের আবেগ অনুভূতির কোনো অভাব নাই। তো খালেদা জিয়া যে হাঁটতে হাঁটতে জেলে গেলেন, আর বন্দি অবস্থায় জেল থেকে গেলেন বাসায়- আমরা কী করলাম। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি, কিন্তু কার কাছে করছি? শেখ হাসিনার কাছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, আমরা প্রতিদিনই ঐক্যের কথা বলছি। একটা মানুষ পেলাম না যে বলছে ঐক্য ছাড়া চলবে। তাহলে আমাদের আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে সমস্যাটা কী? একজনকে দাওয়াত দিলে আরেজন আসবেন না, তাহলে ঐক্য হলো কই?

তিনি বলেন, আমাদের তাদের ভয় পাবার কোনো কারণ নেই, তাদের যে বিচার হবে সেই বিচার থেকে মুক্তি পাবার কোনো উপায় নেই। আজকে আমরা ভয় পাই কাকে? নিজেকে নাকি সরকারকে? নিজেকে যদি ভয় না পাই তাহলে সরকারকে ভয় পাবার কারণ কী?

সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বন্দি মানে বাংলাদেশটাই বন্দি। তাই বিএনপির কর্মী হিসেবে আমাদের কাজটা আমাদেরকে করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, যারা মনে করছেন আমাদের নামের তালিকা করে মামলা দেবেন, জেলে ঢুকাবেন, সাজা দেবেন। আপনাদেরকে বলে দিতে চাই, আপনাদের নামের তালিকা হচ্ছে না এই গ্যারান্টি কে দেবে? আপনাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। একদিন সময় আসবে বৈশাখ মাসের হালখাতার মত একটা একটা করে নাম ধরে সব হিসাব করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, কৃষকদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট সহ আয়োজক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]