শিগগির আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ২৪ মে ২০২২

সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে অতি দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। অতি দ্রুত তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে আশা করছি আমরা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারবো। আশা করি খুব শিগগির আমরা এই কাজটা করতে পারবো।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা।

বিকাল সোয়া ৫টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের আজ দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছি যে, আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সংলাপ করছি। দেশের মানুষের যে অধিকারগুলো হারিয়ে গেছে- তাদের ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, তাদের যেসব অধিকার আজ এই ফ্যাসিস্ট সরকার হরণ করেছে, এগুলো ফিরে পেতে জনগণের সরকার দরকার। সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি সরকার গঠন করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভেবে আমরা এই সংলাপ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ আশা করে আছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটা ঐক্যের মধ্যে এই সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তন আসবে, সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার এবং সংসদ গঠন হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কথা বলেছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি তার মূল বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে।

‘আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বলেছেন যে একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আরেকটি প্রধান বিষয় যা আছে তাতে উনিও (মান্না) একমত হয়েছেন। তিনি বলেছেন- বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি দিতে হবে। শুধু আমরা নই দেশের বেশিরভাগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা এবং যাদের আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। এছাড়াও মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এই যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে এগুলোকে বন্ধ করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই, আজকের আলোচনা অত্যন্ত কার্যকরী হয়েছে। আশা করছি এই আলোচনার রেশ ধরে বাকি দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। এর মাধ্যমে অতি দ্রুত একটা সত্যিকার অর্থে আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে প্রস্তুত হতে পারবো।

এসময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, তা নিয়ে বিস্তারিত না হলেও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি বিষয়ে আমরা একমত যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা লড়াই করবো। বৈঠকের শুরুতেই আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি। এটাই ছিল আলোচনার ভিত্তি। আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে দলগুলোর বোঝাপড়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, নির্বাহী সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন অংশ নেন। অন্যদিকে মান্নার সঙ্গে নাগরিক ঐক্যর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এস এম আকরাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখরুল ইসলাম নবাব, জিল্লুর চৌধুরী দীপু, যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহেদ উর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু জাহেদ মোহাম্মদ সারওয়ার, আনিসুর রহমান খসরু, মাহবুব মুকুল, মনজুর কাদের, এস এম এ কবির হাসান, আবু তালেব দেওয়ান, মুহিদুজ্জামান মুহিদ, আব্দুর রাজ্জাক রাজা প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।

কেএইচ/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]