পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাবে না বিএনপি: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২২ জুন ২০২২

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২২ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনারা যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে, যারা এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পদ্মায় ডুবিয়ে মারতে চায়, যারা এ দেশের সবচেয়ে প্রতিথযশা এবং এ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জন করে আনা মানুষ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে চুবিয়ে চুবিয়ে মারতে চায়, তাদের আমন্ত্রণে বিএনপির কোনো নেতা বা কোনো কর্মী কখনোই যেতে পারে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ যে প্রেস কনফারেন্স করেছেন, সেখানে পূর্বের মতোই তার যে স্বভাবসুলভ বক্তব্য, সেই বক্তব্যের মধ্যে তিনি যে মিথ্যাচার করেন, তার প্রমাণ আবার রেখেছেন। এর মধ্যে আছে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মাওয়া প্রান্তে সেতুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং জাপান সরকারকে পুনরায় মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে সেতুর জন্য সমীক্ষা করতে বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ হচ্ছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি রিপোর্ট যেটা হচ্ছে, মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তের যেটা বর্তমানে আছে। এই রিপোর্টের কপিও আছে আমাদের কাছে, আপনারা চাইলে দেখতে পারেন। এই রিপোর্টটি ২০০৪ সালের ৩ মার্চ সাবমিট করা হয়েছিল। এটা হচ্ছে ইন্টারিয়ম রিপোর্ট অন দ্য ফিজিবিলিটি স্টাডি অব পদ্মা ব্রিজ।

‘একটা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অফিসিয়ালি দেওয়ার পরেও কী করে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলতে পারেন যে, বিএনপি গভর্নমেন্ট আসার পর এটাকে বন্ধ করে দেয় এবং কোনো কাজ করেনি। এই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তো তারা পরবর্তীকালে কাজ করেছেন। অথচ তিনি সমানে বলে যাচ্ছেন, বিএনপি সরকার এটা বন্ধ করে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। কাজ শুরু করার পরে বিশ্বব্যাংক যখন ফান্ড বন্ধ করে দিল দুর্নীতির কথা বলে, তখন থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়েছে। সেটার জন্য তিনি বিএনপিকে দায়ী করেন, ড. ইউনুসকে দায়ী করেন। কোথায় পেলেন তিনি? কীভাবে দেখলেন যে দুর্নীতির কথা বিএনপি বা ড. ইউনুস তুলেছে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কথা তোলার পরই দেশবাসী জানলো, আমরা জানলাম, সেখানে দুর্নীতি হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজ এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট এখন ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ এবং বিএনপিকে জনগণের সামনে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা। এগুলোর কোনোটাই কাজ হবে না। কারণ দেওয়ার আর টুলস অ্যান্ড ডুকমেন্টস।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সকালে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উপ-সচিব দুলাল চন্দ্র সূত্রধর পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহাসচিবসহ ৭ নেতার নামে আমন্ত্রণ কার্ড দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে হস্তান্তর করেন।

আমন্ত্রণ পাওয়া অন্য নেতারা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম থান ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। 

কেএইচ/আরএডি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]