দুর্যোগে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক: রব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ২৩ জুন ২০২২

দেশের এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে বন্যার্তদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। বরং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের নামে অনাড়ম্বর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের স্থলে জমকালো ও বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর আসছে, বানের স্রোতে তলিয়ে যাওয়া মানুষের লাশ ভাসছে। দাফনের জন্য মিলছে না মাটি। দাফনের জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ প্রিয়জনের লাশ ভাসিয়ে দিচ্ছে বানের পানিতে। মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা কত তাও প্রকাশ করতে পারছে না সরকার। সিলেট অঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা কল্পনাতীত। হবিগঞ্জসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বন্যায়।

আবদুর রব বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা। সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। ত্রাণ ও বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম এলাকায় কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। নিরাপদ পানির তীব্র অভাব। তলিয়ে গেছে সব কুয়া ও নলকূপ। ফলে বন্যার্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ।

'বন্যা পরিস্থিতি এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যথাসময়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ থাকার পরও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নেয়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। বন্যার ভয়াবহতার মাত্রা বৃদ্ধিতে হাওর এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণে কতটুকু ভূমিকা আছে সে সম্পর্কেও সরকারি কোন তদন্তের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।'

তিনি আরও বলেন, এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা খুবই হতাশাজনক। বন্যার ভয়াবহতায় যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা খুবই কম। এ সময় সরকার জনজীবন সুরক্ষার চেয়ে দৃশ্যমান স্থাপনা নির্মাণেই উৎসাহী। এটাই সরকারের উন্নয়ন দর্শন। জাতির এমন দুর্যোগকালে জমকালো ও বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা কোনো ক্রমেই সংগতিপূর্ণ নয়।

কেএইচ/জেএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]