দেশ আজ গভীর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত: খালেকুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২২
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে কমরেড খালেকুজ্জামান

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড খালেকুজ্জামান বলেছেন, দেশ আজ গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নানান ফানুস উড়িয়ে জনগণের দূর্বিষহ পরিস্থিতি আড়াল করতে চায়।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে জেলা বাসদের উদ্যোগে ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ও উত্তরণে করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, শাসকদল এককভাবে ক্ষমতার সবটুকু ভাগ ভোগ করে চলতে পারবে না। এটা তারা বাইরের চাপ ও দেশের উত্তাপে বুঝতে পেরেছে। তাই তারা জাল-জালিয়াতির নবকৌশল নিয়ে আগাচ্ছে। এর বিপরীতে দরকার বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির ঐকমত্য।

সভায় আরও বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, কক্সবাজার জেলা বাসদের সংগঠক মজিবুল হক, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী দেলেয়ার মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেসাইন কবির, গণমুক্তি ইউনিয়ন, চট্টগ্রামের সভাপতি রাজা মিয়া।

বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ইনচার্জ আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে রায়হান উদ্দীনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, চাল-ডাল-সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, সিন্ডিকেট কারসাজি, গ্যাস-বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম-সংকট, লোডশেডিং ও পানিসংকটে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠে গেছে।

‘অন্যদিকে একের পর এক সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, ধর্ষণ, নিপীড়নের ঘটনায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। আমলাতান্ত্রিক ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে জনগণ এখন অসহায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে আজ দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’

বক্তারা বলেন, দেশের টাকা লুট হয়ে বিদেশে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিবছর গড়ে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, যা দিয়ে তিনটি পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্ভব।

তারা বলেন, কেবল ২০২১ সালে একক ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৩২১ নারী। এর বেশিরভাগের সঙ্গেই শাসকদলের লোকজন জড়িত থাকায় বিচার হয়নি। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ প্রতিবাদী মানুষজন ঠিকই গ্রেফতার হয়েছেন।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি নড়াইল, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে নৃশংস সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছেন হিন্দু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ। ঘরবাড়ি-মন্দির পুড়িয়ে নিঃস্ব করা হয়েছে তাদের। অথচ প্রশাসন ও সরকার নির্বিকার। উপরন্তু পুলিশের সামনে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে শিক্ষক অবমাননার মতন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

‘হেফাজতসহ মৌলবাদী দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের আঁতাত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তো পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িক করার প্রস্তাব, ভাষ্কর্যের বিরোধিতার কাছে সরকারের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে।’

সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, সরকার যতই উন্নয়নের কথা বলুক না কেন, মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী ও দলীয় লোকজনের দাপট ছাড়া কিছুরই উন্নতি ঘটেনি। সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রমাণ হয় মালিকগোষ্ঠীর লোভের কাছে কতটা তুচ্ছ শ্রমিকের জীবন।

‘ফসলের ন্যায্যমূল্যের অভাব ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এবারের বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ হাওড়ের পানিতে ফসল, গবাদি পশু বাড়িঘর ডুবে গেলেও মেলেনি পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ-ত্রাণ। অথচ পদ্মাসেতু উদ্বোধনে খরচ করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার আতশবাজি।’

বক্তারা বলেন, এবারের বাজেটেও উপেক্ষা করা হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যানমূলক খাতগুলোকে। আমলাতান্ত্রিক শোষণ, কালো টাকার মালিক ও ঋণ খেলাপিদের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয়, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় যতই উন্নয়ন হোক না কেন তার ফল কেবল অল্পকিছু মানুষের হাতেই গচ্ছিত হয়।
‘বর্তমান পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থাও ক্রমবর্ধমান সংকট-দ্বন্দ্বে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পাশের দেশ শ্রীলংকার দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এ ঘনীভূত সংকটের নানাদিক উন্মোচিত করেছে। বাজার দখল,অস্ত্র বিক্রি, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণসহ ভূ-আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে মরীয়া হয়ে পড়েছে সাম্রাজ্যবাদী দস্যুরা।

সবশেষে বক্তরা বলেন, লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু, কর্মহীন-গৃহহীন দশা এ সত্যই তুলে ধরে যে, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ যতদিন থাকবে ততদিন মানুষের মুক্তি নেই। মানুষ ও সভ্যতার মুক্তির জন্য শোষণমূলক ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করতে হবে। নির্মাণ করতে হবে সাম্যের মানবিক সমাজ।

ইকবাল হোসন/এসএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]