বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুনিদের মুখোশ উন্মোচন জরুরি: হানিফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২২

দেশ থেকে বিভক্তি দূর করতে হলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার হয়েছে কিন্তু তাদের কুশীলবদের মুখোশ এখনো উন্মোচন হয়নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল জিয়াউর রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন খুনিদের চিনতে পারে সেজন্য প্রয়োজনে তদন্ত কমিশন গঠন করে কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। তরুণ প্রজন্ম খুনিদের চিনতে পারলে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারবে।

সোমবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে ‘বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন একজন সহজ-সরল মেয়ে। বেগম মুজিবের উল্লেখ করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তার অসামান্য বিচক্ষণতা ছিল। বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না কিন্তু নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেছেন। যে কোনো বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে তার পরামর্শগুলো ছিল অবিস্মরণীয় এবং বাস্তবসম্মত।

তিনি বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস। সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থেকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু রাজনীতির করেছিলেন দেশের জনগণের জন্য এবং বেগম মুজিবের কর্মকাণ্ডও ছিল এ দেশের মানুষের জন্য। তিনি ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। তিনি যদি বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য না করতেন, অনুপ্রেরণা না দিতেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এতো ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব ছিল না।

বেগম মুজিব দলের নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে হানিফ বলেন, বেগম মুজিব একহাতে সব সামলেছেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সংসার চালিয়েছেন, সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছেন। শুধু ঘরের কাজ করেই ক্ষান্ত হননি বরং রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দলের নেতাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

‘পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে বারবার বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তাদের ধারণা ছিল বঙ্গবন্ধুকে নির্যাতন করলে হয়তো উনি স্বাধিকার আন্দোলন থেকে সরে যাবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকলেও তার অনুপ্রেরণা ছিল তার ঘরে। বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জেলখানায় দেখা করতে যেতেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির খবর দিতেন এবং এর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের জন্য দিক-নির্দেশনা নিয়ে আসতেন।’

আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের স্বাধীনতা লাভের পেছনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেগম মুজিবের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মহীয়সী নারী বেগম মুজিবের। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। পঁচাত্তরের কাল রাত্রিতে যখন ঘাতকরা গুলিবর্ষণ করেছিল তিনি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি প্রাণভিক্ষা চাননি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফেরার পর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে কয়েকজনের রায় কার্যকর হয়েছে। কিছু দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ইতিহাসবিদ ও বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায় ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক। সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

এসইউজে/আরএডি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।