অন্তত ২০ দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে: নাছিম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২
স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

নিরুপায় হয়ে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, আওয়ামী লীগ চায় দেশের মানুষ ভালো থাকুক।

তিনি বলেন, করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্ব মন্দার কবলে পড়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো উপায় ছিল না, তাই বাংলাদেশেও দাম বাড়াতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ইতিহাস শেখ হাসিনা সরকারের আছে উল্লেখ করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার সাশ্রয়ী নীতি নিয়েছে। সাশ্রয়ী হওয়া মানে অভাব নয়। দেশ যাতে বড় সংকটে না পড়ে এজন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। যারা চায় না দেশ এগিয়ে যাক তারা সমালোচনা করবে।

বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটিয়ে দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে চায় দাবি করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আগস্ট মাস এলে বিএনপি খুনিদের মতো কথা বলে। একাত্তরের খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে চায়।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় মেনে নিতে পারেনি, যারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তল্পিবাহক হয়ে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক মিনি পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল, সেই ঘাতকের দল ১৫ আগস্ট জাতির পিতার পরিবারের ওপর আঘাত হেনেছিল। বাঙালি জাতির মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটিয়েছিল, যা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল, পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানের এজেন্ট, দোসররা ক্ষমতার মসনদে বসে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মেরছিল। বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিপাতিত করেছিল। জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করেছিলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন।

নাছিম বলেন, সাম্প্রদায়িক, দেশবিরোধী শক্তি একাত্তরে পরাজিত হলেও নিঃশেষ হয়নি। তারা এখনো দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি প্রতিদিন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটিয়ে দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার আদর্শের সন্তান। কেউ হত্যা, খুন, ধ্বংসের রাজনীতি করলে আমরা মোকাবিলা করবো। খুনিদের বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে প্রতিহত, পরাজিত করে অপরাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চরম স্ফুরণ ঘটিয়েছিলেন। যার কারণে আজ আমরা স্বাধীন দেশের বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছি। ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে দিতে চেয়েছিল।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দুর্যোগ, দুর্বিপাক মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপরও ষড়যন্ত্রকারীরা সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছে। দেশের স্বাধীন পতাকা যাতে রাজাকার, আলবদরদের গাড়িতে আবার না ওঠে এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, জাতীয় পরিষদ ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।