বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে: হানিফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২২

বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে-বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি গণহত্যা চালিয়েছিল। আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মী খুন হয়। ১০ হাজার মা-বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়। এসবের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় আওয়ামী লীগ নয় বরং বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, এক সাক্ষাৎকারে বলা হয় খালেদা জিয়ার জন্ম হয় ৫ সেপ্টেম্বর। এখন জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন উদযাপন করে।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। টানা দুই বছর করোনার কারণে বিশ্ব বিপর্যস্ত ছিল। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। বিশ্ব সংকটের কারণে সে ধাক্কা আমাদের দেশেও লেগেছে। কিন্তু বিএনপি এ সুযোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ সংকট সাময়িক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে উঠবো।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলনের প্রথম সৈনিক হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ৬ দফার মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু তাকে নয়, স্বাধীনতার মূল চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য তাকে হত্যা করা হয়নি। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান ও তাদের দোসর পশ্চিমা মহাশক্তিধর রাষ্ট্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দণ্ডপাপ্ত অনেকের রায় কার্যকর হয়েছে। কয়েকজন আত্মস্বীকৃত খুনি পালিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাকে অনুরোধ করবো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী দণ্ডপাপ্তরা যদি সেখানে থেকে থাকে তাহলে তাদের যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বিচার রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় যারা মূল চক্রান্তকারী তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়নি। জিয়াউর রহমান তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি জড়িত ছিলেন। আত্মস্বীকৃত খুনীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে।’

ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে বাঙালি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিল না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা। তিনি জানতেন ছাত্ররা জাগ্রত সমাজ, অধিকার আদায়ে সোচ্চার। সে সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের আগে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার জন্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত কোনো ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ সব শহীদ স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগ।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগ সভাপতি রাজিয়া সুলতানা কথা।

আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন, ইমাম সুলতানা স্মৃতি, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল হাওয়া আঁখি।

এসইউজে/এমআইএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।