‘শিক্ষা এখন অধিকার নয়, বাণিজ্য’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

‘তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ও একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রবর্তনের দাবিতে ১৯৬২ সালে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত দিন ১৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন যে চেতনায় আন্দোলন হয়েছে, সে চেতনা আজও অধরা রয়ে গেছে। শিক্ষা এখন অধিকার নয়, বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।’

শনিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া।

তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমাদের শাসকগোষ্ঠী একটি সর্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষা অধিকার আজ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্নীতিবাজদের কালো থাবায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

তাদের মতে, দেশের এক শ্রেণির শিক্ষক নামধারী শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছেন। ওই শিক্ষকদের জীবনমান প্রমাণ করে, তারা শিক্ষাকে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। তারা ভুলে গেছেন শিক্ষা বাণিজ্য নয়, অধিকার।

‘সরকার ও দেশের সচেতন নাগরিকদের উচিত ওইসব শিক্ষক নামধারীদের আয়ের উৎস খুঁজে বের করা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদদের কলঙ্কিত করা নয়। সমাজের শিক্ষকতার নামে দুর্নীতি করা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাও তাদের দায়িত্ব।

ন্যাপের দুই নেতা আরও বলেন, গণমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে তাতে প্রমাণিত হচ্ছে, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ আসনে বসে এসব শিক্ষিত সমাজই রাষ্ট্রকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। আজ জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, উপাচার্যদের হাত ধরে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় কী তবে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে? এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে, সকালে যাকে সাধু মনে হচ্ছে, রাত নামলেই তাদের লোভের বশে দুর্নীতির অন্ধকার গলিতে নগ্নভাবে হাঁটতে দেখা যায়।

তারা বলেন, দেশের শাসকগোষ্ঠী ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ নীতির বাস্তবায়ন করেছে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অনিবার্য পরিণতি ছিল ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। তেমনিভাবে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রসমাজ সর্বগ্রাসী শিক্ষাসংকট উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ছাত্রদের গণআন্দোলন, যা বেগবান করবে সমাজ বিপ্লবের লড়াইকে। এ হোক মহান শিক্ষা দিবসের অঙ্গীকার।

কেএইচ/এসএএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।