‘আমরা কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষে বিশ্বাস করি না’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২

১০ ডিসেম্বর। রাজনীতির নয়া টাইমলাইম। এদিন বিএনপির ডাকা সমাবেশ ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা বইছে রাজনীতির হাওয়ায়। রাজধানীর মধ্যে এমন সমাবেশ, সমাবেশ ঘিরে লোকসংখ্যা, সরকার পতনের আলোচনা যেমন বিরোধী শিবিরকে উজ্জীবিত করছে, তেমনি এখন পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি না পাওয়া, ৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি, বিএনপিকে প্রতিহত করার ঘোষণার মতো আলোচনাও এখন সর্বত্র।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে কথা হয় দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের সঙ্গে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার মতামত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করবো। আমরা কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষে বিশ্বাস করি না। গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস রেখে রাজনীতি করছি। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। আন্দোলন করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার সরকার বারবার হরণ করছে।’

সমাবেশ ঘিরে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা করছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। বিভাগীয় সম্মেলনগুলো তার প্রমাণ রেখেছে। সরকার নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চেষ্টা করেছে। উসকানি দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো ফাঁদে পা দেয়নি। পুলিশ গুলি করে পাখির মতো হত্যা করছে নেতাকর্মীদের। আমরা সংঘাতে যাইনি। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লড়াই করছি।’

‘আমাদের সমাবেশ ঘিরে আওয়ামী লীগ কী করবে তার ধারণা আমাদের কাছে নেই। আমাদের সমাবেশের আগের দিন আওয়ামী লীগ কেন সমাবেশ ডেকেছে তার ব্যাখ্যা আওয়ামী লীগ দিতে পারবে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ করবো। সমাবেশ থেকে শান্তির বার্তা দেব’ যোগ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন হাফিজ উদ্দিন আহম্মদও। তিনি বলেন, ‘আমরা যে কোনো মূল্যেই সমাবেশ করবো। সমাবেশ নিয়ে আমাদের মহাসচিব পরিষ্কার করে দিয়েছেন এবং আমি ঠিক তার কথাই বললাম। আমরা বহু আগে থেকে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে আসছি। আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিভাগীয় সমাবেশ করে জানান দিয়েছি ঢাকার সমাবেশের জন্য। এখন অনুমতি না দেওয়ার কিছু নেই। খামখেয়ালি আচরণ সব সময় মানায় না। পরিস্থিতি বুঝতে হবে সরকারকে। সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে চাইছে।’

সরকারের বাধার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকার বাধা দেবেই। আমরা সেটা জানিও। সরকার প্রতিটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে আসছে। মানুষকে কথা বলতে দিচ্ছে না। আমরা বাধা অতিক্রম করেই সমাবেশ করবো। এই পরিস্থিতির তো অবসান দরকার। মানুষ মুক্তি চাইছে। আমরা মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি।’

আপনাদের ডাকা সমাবেশ ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে বাড়তি উত্তেজনার কিছু নেই। আমরা একটি মিটিং করবো এবং সেখান থেকে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করবো। সরকারের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন এখনো অনেক দেরি। সরকার এত ভয় পাচ্ছে কেন?’

বিএনপির নেতাদের কেউ বলছেন ১০ লাখ, কেউ বলছেন ২৫ লাখ লোকের সমাগম হবে সমাবেশে। এমন সমাগম ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ বয়ে আনবে কি না? জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই বক্তব্য কোনো দলীয় বক্তব্য নয়। এমন বক্তব্য যারা দিয়ে আসছেন, তা খণ্ডানোর দায়িত্ব তাদের। আমাদের মহাসচিব যা বলেছেন, তাই দলীয় কথা। আর দশটি কর্মসূচির মতোই এটি একটি কর্মসূচি। এখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে মাত্র।’

এএসএস/এএসএ/জেআইএম

আমরা নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করবো। আমরা কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষে বিশ্বাস করি না। গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস রেখে রাজনীতি করছি। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি।

এখানে বাড়তি উত্তেজনার কিছু নেই। আমরা একটি মিটিং করবো এবং সেখান থেকে আমরা আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করবো। সরকারের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন এখনো অনেক দেরি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।