বিএনপিকে পরিকল্পনামন্ত্রী

লাঠি নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২২

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। নির্বাচিত সরকারের গুণগান নিয়ে আপনার সন্দেহ থাকতে পারে। আসেন বসেন কাগজপত্র দেখেন। কিন্তু লাঠি নিয়ে দলবেঁধে বেড়িয়ে অন্যায় কথা বলে রাজনীতি করা যাবে না।

তিনি বলেছেন, লাঠি-সোটা নিয়ে বেরিয়ে অমুক তারিখের পরে ক্ষমতায় থাকতে দেবো না। আমাদের কথায় দেশ চলবে- এ ধরনে কথা বললে, শুধু রাজনীতি নয় দেশের অর্থনীতিরও ক্ষতি হবে। আর অর্থনীতির ক্ষতি হলে আমাদের জীবন মান আরও নিচে যাবে।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর ব্যাক ইন সেন্টারে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল ধারায় একীভূতকরণে করনীয়’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিজঅ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) আয়োজনে সেমিনারের সভাপতিত্ব করে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এটা সবাই স্বীকার করে। এমন কী আমাদের যারা সংকীর্ণ মন নিয়ে রাজনীতি করে তারাও এই পরিবর্তন স্বীকার করে। তারা বলেন, আমরা অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, এই যে সবার মাথার ওপর বিদ্যুৎ, এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ কী হতে পারে। এখন কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংকট হয়, এটা স্বাভাবিক। এ নিয়ে খোঁটা দেওয়ার কোনো মানে হয় না। বিদ্যুৎ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেছে, মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে আগামীতেও পাবে।

বিএনপির উদ্দেশে মান্নান বলেন, তারা পদ্মা সেতু করতে পারেনি, কর্ণফুলী ট্যানেল করতে পারেনি। কারণ এগুলো তাদের মাথায় ছিল না, তাদের সাহস ছিল না। দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। আমরা এগুলো করেছি। এগুলো আমাদের অর্জন। বরং তারা সমালোচনা করছে, কারণ তারা প্রতিনিয়ত প্রতি হিংসায় আক্রান্ত।

মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য অর্থ, কাজ, শ্রম, শিক্ষা- সব দরকার। আর সব থেকে বেশি প্রয়োজন স্থিতিশীল উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। আমার কাজের ওপর আরও কাজ যোগ হবে। যদি এই রাস্তা বন্ধ করে দেবো, ওই রেললাইন উপড়ে ফেলে দেবো। বাজার করতে দেবো না, ট্রাকে পণ্য আনলে তা রাস্তায় ফেলে দেবো- এ ধরনের বিনাশী কাজ যদি করে সেই সমাজে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। এটা নিশ্চিত।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় ২২ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকে মাহাথি উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেছেন। তখন তো বলা হয়েছে মাহাথি খুব ভালো মানুষ। আর শেখ হাসিনার যখন ১০ বছর হয়ে যায় তখন বিরক্ত হয়ে যান। এখানে দুই ধরনের মনোভাব দেখা যায়। মাহাথির ২২ বছর যদি ভালো হয় তাহলে কোন যুক্তিতে বলেন শেখ হাসিনার ১০ বছর ভালো নয়, এটা মাথায় আসে না।’

এসময় তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বিগত সময়ে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ভাবতামই না। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ বছরে এই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সরকার তাদের নিয়ে কাজ করছে। আগে প্রতিবন্ধী শিশুদের লুকিয়ে রাখার মানসিকতা দেখা যেতো। এখন সে অবস্থা নেই। এখন তাদের কোনো ভয়-ভীতি নেই। তবে তাদের নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।

এর আগে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিআরআরের ম্যানেজার শাকিল আহমেদ ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা স্বপ্না রেজা।

এমওএস/আরএডি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।