আইজিপিকে গায়েবি মামলা ও হামলার অভিযোগ দিলো বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, গায়েবি মামলা, বাধা-হামলার ঘটনা, আওয়ামী লীগের বাধাসহ নানা বিষয়ে আমরা আইজিপিকে জানিয়েছি। তিনি দেখবেন বলছেন।

তিনি বলেছেন, আমরা সারাদেশে আটটি সমাবেশ করেছি। কোথাও কোনো সহিংসতা হয়নি। ঢাকাতেও হবে না। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের সহিংসতার আশঙ্কা করছি না। তবে এর বাইরে অন্য কেউ যদি নাশকতা করে বা করার চেষ্টা করে সেটা পুলিশ দেখবে। সেটা তাদের দায়িত্ব। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিরই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেড়িয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক করেছি। আইজিপি, পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে ছিলেন। আমরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, গায়েবি মামলা, বাধা-হামলার ঘটনা, আওয়ামী লীগের বাধাসহ নানা বিষয় আমরা তুলে ধরেছি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের গেট থেকে ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নরসিংদীতে গায়েবি মামলা হয়েছে। আমরা এই মামলার ব্যাপারে কথা বলেছি। তিনি (আইজিপি) দেখবেন বলছেন।

সমাবেশ ঘিরে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে বুলু বলেন, বৈঠকে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে তারা (পুলিশ) কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, আমরা পল্টনে করতে চাই। তারা বলছেন, আপনারা সোহরাওয়ার্দীতে করেন। আমরা স্থান নির্ধারণ নিয়ে আমাদের স্ট্যান্ড জানিয়েছি।

বিভিন্ন সময় আপনারা বলেছিলেন পুলিশের গুলিতে সাতজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, আজ এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে বুলু বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানিয়েছি। হত্যার বিষয়ে তারা তদন্ত করে দেখবেন। কোনো পুলিশ সদস্য যদি বেআইনিভাবে হত্যায় জড়িয়ে থাকে তবে ব্যবস্থা নেবেন।

গায়েবি মামলার ব্যাপারে আপনারা কিছু জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গায়েবি মামলার কপি পুলিশ প্রধানকে দিয়েছি। উনি (আইজিপি) বলেছেন খতিয়ে দেখবেন। আমরা বলে এসেছি, একই মামলা যুবলীগের নেতা বাদী, পুলিশও বাদী। এটা তো হয় না। এটাই তো প্রমাণ করে গায়েবি মামলা।

এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের পুলিশের প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে। আমরা আসলে পুলিশের প্রতিপক্ষ না। আস্থার সংকট হচ্ছে মূল। যা নির্ভর করছে সরকারের মানসিকতার ওপর।

সমাবেশ কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করেছেন কি না, এ বিষয়ে বুলু বলেন, আমরা খুব শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা সারাদেশে আটটি সমাবেশ করেছি। কোথাও কোনো সহিংসতা হয়নি। রাজশাহীতেও হবে না, ঢাকাতেও হবে না। আমাদের তরফ থেকে তো হবেই না। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছি না। তবে এর বাইরে অন্য কেউ যদি নাশকতা করে বা করার চেষ্টা করে সেটা পুলিশ দেখবে। সেটা তাদের দায়িত্ব। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিরই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ডিএমপি ২৬ শর্তে বিএনপিকে ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।

পরে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নয়াপল্টনে বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য তারা অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করেছিল। সোহরাওয়ার্দি উদ্যোনে তারা চায়নি। ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ওইদিন দলের এক অনুষ্ঠানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, জায়গায় আপনারা (সরকার) দিতে চান সেই জায়গায় আমরা কনফোর্টেবল নই-খুব পরিস্কার কথা। চারিদিকে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, চতুর্দিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। একটা মাত্র গেইট যে গেইট দিয়ে এক-দুজন মানুষ ঢুকতে পারে, বের হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা পরিস্কার করে আবার বলছি, আপনাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। জনগনের ভাষা বুঝতে পেরে এই নয়াপল্টনে আমাদের ১০ তারিখ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সব ব্যবস্থা আপনারা নেন।

টিটি/আরএডি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।