ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ

কমিটিতে স্থান পেতে মরিয়া একঝাঁক তরুণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ৬ ডিসেম্বর। তবে এর আগে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন হবে। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। এই সম্মেলনকে ঘিরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আছে বেশ আগ্রহ। সংগঠনটির এ দুই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাঁপ করছেন অনেকেই।

স্বভাবত, এই কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করেন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। তবে এবার আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও আগ্রহ রয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে। এই কমিটির নেতৃত্বেই জাতীয় নির্বাচন কাজ করতে হবে ঢাকার সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। এ কারণে এবার সাবেক ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের কমিটিতে আনার চেষ্টা করছেন।

তবে মহানগর ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। অথবা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটি দেবে। এখানে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের নেতৃত্ব: প্রাধান্য ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে, সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নগরের দুই কমিটির নেতৃত্বে আসতে একঝাঁক তরুণকে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে। তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়, দলের নেতাদের কার্যালয় এবং ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্রে প্রায় ডজন খানেক পদপ্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে যাচ্ছেন বলে দাবি অনেকের। যদিও ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের চাওয়া- দৌড়ঝাঁপে নয়, সংগঠনের সব ধরনের পরিস্থিতিতে যারা শক্ত হাতে হাল ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তারাই নেতৃত্বে আসুক।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও তেমনটাই জানা গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ভালো, রয়েছে ক্লিন ইমেজ, পরিবারের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী; তারাই আগামীর নেতৃত্বে আসবেন। এ ছাড়াও যারা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এবং মানবিক কাজ করে আলোচনায় আসতে পেরেছেন, এমন ছাত্রনেতারাও এগিয়ে থাকবেন।

ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের দৌড়ে যারা
দক্ষিণ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক মাইনুল হাওলাদার, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বারেক হোসেন আপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম মিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিবাস মজুমদার, ধর্ম-বিষয়ক উপ-সম্পাদক এস এম মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।

এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক মাইনুল হাওলাদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন কবি নজরুল শাখা ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দিয়েছি। মহানগরে এখন সভাপতি প্রার্থী। যদিও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমাকের উপ-সম্পাদক করেছে। আমি প্রকৃতপক্ষে এই নগর সংগঠনে কাজ করতে চাই। এখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব কর্মসূচি ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের সহযোগী হতে চাই।

ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম মিরাজ বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থাকার ফলে এখানকার পরিবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে আমি পরিচিত এবং অভিজ্ঞ। আমার হাতে দায়িত্ব দিলে যেকোনো সময়ের তুলনায় এই নগর ছাত্রলীগকে আরও ভালোভাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গড়ে তুলবো।

ঢাকা উত্তরের নেতৃত্বের দৌড়ে যারা
আসছে সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের দৌড়ে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তারা হলেন— ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান খান প্রান্ত, উপ-দপ্তর সম্পাদক জাকওয়ান হুসাইন, ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সুমন, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল, রূপনগর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঠু, কাফরুল থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী সালমান খান প্রান্ত বলেন, আওয়ামী পরিবারের সন্তান আমি। দলের জন্য, ছাত্রলীগের জন্য সবসময় কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করবো। যতদিন বেঁচে আছি, দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবো। সব অপশক্তিকে রুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করাই আমার লক্ষ্য।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জাকওয়ান হুসাইন বলেন, ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন আছি। পারিবারিকভাবে আমি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাকে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগকে গুছিয়ে নেত্রীর প্রকৃত ভ্যানগার্ড হিসেবে তৈরি করতে পারবো।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন, যাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আছে, যারা ত্যাগী; আমাদের প্রত্যাশা—তারা পদে আসুক।

একই সুরে কথা বলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদও। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। এখানে অতীতে যারা রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন, তারাই আগামীর নেতৃত্বে আসুক, এটাই আমরা চাই।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন নেতৃত্বে যৌগ্য ও ত্যাগীরা পদ পাবেন, এটাই কামনা করি।

এসইউজে/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।