‘বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

মাহবুবউল আলম হানিফ। জন্ম ১৯৫৯ সালে। কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। পুলিশের চলমান অভিযান ও রাজনীতির অন্যান্য বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও সংঘাত-সংকটের রাজনীতি। সভা-সমাবেশ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সরকার নানাভাবে বল প্রয়োগ করছে বলে বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

মাহবুবউল আলম হানিফ: বিএনপির অতীত সবার জানা। পরিবহন মালিকরা জানেন বিএনপি কী ক্ষতি করেছে এর আগে। পরিবহন মালিকরা নিজেরাই চাইছেন না বিএনপির সমাবেশের দিন যান চলাচল করুক। পরিবহন ধর্মঘটের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। কোনো মালিক যদি গাড়ি পোড়ানোর ভয়ে বন্ধ করে রাখে, তাহলে অন্যদের আর কী করার আছে?

বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত সরকার দিতে পারে না। আর মালিকপক্ষের মধ্যে বিএনপির বড় বড় নেতাও রয়েছেন। তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, কেন পরিবহন বন্ধ রাখা হচ্ছে।

জাগো নিউজ: কিন্তু অঞ্চলভিত্তিক এমন ধর্মঘটে জনগণ তো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভোগান্তি নিরসনে সরকারের তো দায় আছে?

মাহবুবউল আলম হানিফ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছেন। ঠুনকো অজুহাতে হরতাল-ধর্মঘট দিয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো যাবে না।

জাগো নিউজ: ধর্মঘট তো হচ্ছে। এতে সরকারের ইমেজ সংকট হচ্ছে কি না?

মাহবুবউল আলম হানিফ: ধর্মঘটে সরকারের ইমেজ সংকট বাড়ছে। মানুষ তো ভুগছে। কিন্তু পরিবহন মালিকরা বিএনপিকে আসলে আর সহায়তা করতে চায় না। অতীতের কথা মনে করেই তারা বিএনপির মানুষদের বহন করতে চায় না। বিএনপির ওপর তাদের ক্ষোভ আছে, কষ্ট আছে। কিন্তু এর জন্য তো আওয়ামী লীগকে দায়ী করা যাবে না।

জাগো নিউজ: সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তো রাখে?

মাহবুবউল আলম হানিফ: এটি সরকার বুঝবে। আমি তো সরকারের অংশ না। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অবস্থানের কথা বলছি। দলের বাইরে তো বক্তব্য দিতে পারি না।

জাগো নিউজ: রাজধানীজুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিএনপি বলছে দলের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযানের নামে।

মাহবুবউল আলম হানিফ: ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে। বাংলা ভাই, শায়েখ আব্দুর রহমানদের বিএনপি তৈরি করেছিল। ১৭ আগস্টের জঙ্গি হামলার ভয়াবহতা সবার জানা।

২০০৬ সালে বিবিসি একটি প্রতিবেদন করেছিল যে, বাংলাদেশে ১২৫টি ছোট-বড় জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। তাদের অনেকের সঙ্গেই হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের যোগাযোগ ছিল বলে বিবিসির সাংবাদিক তুলে ধরেছিলেন। বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা অনেকটাই প্রমাণিত। এটি সবাই জানে।

আর ১৯৭১ সালে রাজাকার-আলবদর বাহিনী গঠন করে জামায়াত যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তাদের অনেকেই ’৭৫-এর পর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বিএনপির মধ্যেই এখন অনেক জঙ্গি নেতা আছে। আব্দুল সালাম পিন্টুর ভাই, কুমিল্লার এমপি কায়কোবাদের বিরুদ্ধে তো জঙ্গিবাদের অভিযোগ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই করছেন, তারই অংশ হিসেবে অভিযান চলমান। যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ভাই জঙ্গিবাদে জড়িত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। টুকুও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হলে অবাক হবো না। এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা করতে হবে।

জাগো নিউজ: সাধারণত জঙ্গিবিরোধী অভিযানগুলো স্পর্শকাতর বলে মনে করা হয়। অভিযান পরিচালনা করা হয় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে। কিন্তু চলমান এ অভিযান এখন সাদামাটা গোছের…

মাহবুবউল আলম হানিফ: এখানে বিশ্লেষণের ব্যাপার আছে। জঙ্গিরা সশস্ত্র অবস্থায় কোনো আস্তানায় অবস্থান নিলে, সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে হলে অধিক সতর্ক থাকতে হয়। নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টি করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আবার জঙ্গিদের সঙ্গে কানেকশন আছে এমন সন্দেহে স্বাভাবিক অভিযানও হতে পারে।

জাগো নিউজ: পরবর্তীসময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আস্থার সংকট তৈরি করবে কি না?

মাহবুবউল আলম হানিফ: মানুষ যদি সন্ত্রাস-জঙ্গি হামলা থেকে মুক্ত থাকতে চায়, তাহলে সরকারের সব অভিযানের সঙ্গে থাকতে হবে। এখানে আস্থার সংকটের কিছু নেই। কেউ যদি সরকারের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে তার উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

জাগো নিউজ: ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা?

মাহবুবউল আলম হানিফ: বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী লীগের কী যায়-আসে? আরও দশটা সংগঠন যেভাবে সমাবেশ করছে, তারাও সেভাবে করবে। এ সমাবেশ নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথা থাকবে। বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। মিডিয়া কেন বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে ব্যাখ্যা চায়, বুঝতে পারি না।

জাগো নিউজ: আওয়ামী লীগ নেতারা তো এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নানান কথা বলছেন, উদ্বেগ প্রকাশ করছেন?

মাহবুবউল আলম হানিফ: যারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা জবাব দেবেন। আমি মনে করি, বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। একটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ করার অধিকার রাখে। পাঁচ লাখ লোক সমবেত করে সমাবেশ করলে সমস্যার কী আছে?

জাগো নিউজ: সমাবেশের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এটি কীভাবে দেখছেন?

মাহবুবউল আলম হানিফ: এই বিতর্ক বিএনপি নিজে থেকে সৃষ্টি করেছে। সমাবেশ করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আমরাও নিয়ে থাকি। বিএনপি কয়েকটি জায়গা চেয়েছে। পুলিশ যেটা ভালো মনে করবে সেখানেই করবে। এখানে সমস্যা দেখছি না।

জাগো নিউজ: তার মানে এই সমাবেশকে আপনি ঠিক পাত্তা দিচ্ছেন না?

মাহবুবউল আলম হানিফ: একেবারেই না। ১০ ডিসেম্বর কী হবে? মহাভারত কিছু ঘটবে? একটি নির্বাচিত সরকার আছে। দুই-চার লাখ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে কেউ কিছু করতে চাইলে পরিণাম ভালো হবে না। বেহুঁশ হয়ে কিছু করতে গেলে সরকার বসে থাকবে না। ভুলের খেসারত ওই দলকেই দিতে হবে।

এএসএস/এএসএ/জিকেএস

পরিবহন মালিকরা জানেন বিএনপি কী ক্ষতি করেছে এর আগে। পরিবহন মালিকরা নিজেরাই চাইছেন না বিএনপির সমাবেশের দিন যান চলাচল করুক। পরিবহন ধর্মঘটের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।

বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী লীগের কী যায়-আসে? আরও দশটা সংগঠন যেভাবে সমাবেশ করছে, তারাও সেভাবে করবে। এ সমাবেশ নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথা থাকবে। বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

১০ ডিসেম্বর কী হবে? মহাভারত কিছু ঘটবে? একটি নির্বাচিত সরকার আছে। দুই-চার লাখ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে কেউ কিছু করতে চাইলে পরিণাম ভালো হবে না।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।