পুলিশের ধারণা মকবুল ককটেলে মারা গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের সময় মকবুল হোসেন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি সেখানে অনেকগুলো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে একজন সাধারণ নাগরিক মারা গেছেন। তার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আজ পাওয়া যাবে। পুলিশ ধারণা করেছে, তিনি ককটেল বিস্ফোরণে মারা গেছেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কীভাবে পুলিশের ওপর হামলা ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। গত পরশু রাতে বিআরটিসি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আরও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা বহু আগে থেকেই বলেছিলাম, বিএনপি সমাবেশ না বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সূত্রপাতের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি সমাবেশের ডাক দিয়েছে ১০ ডিসেম্বর। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর দুপুর থেকে তারা নয়াপল্টনে জমায়েত হতে থাকে। এরপর রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ করা হয়, আপনারা দয়া করে রাস্তার একটি লেন যাতে চালু থাকে, সেই ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে। এরপর মতিঝিল-রমনা এলাকার ডিসি হায়াত সেখানে নিজে যান। যানবাহন চলাচলে রাস্তার একটি লেন চালু রাখতে তিনি যখন অনুরোধ করছিলেন, তখন তাকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তার দেহরক্ষীকে দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। সেখান থেকে সংঘর্ষ শুরু।

বড় সমাবেশ করতে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তারা সবসময় বলে আসছে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাবে। বড় সমাবেশ করতেই তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যেতে তারা অনীহা প্রকাশ করে। এরপর মিরপুরের পল্লবী মাঠ, কালসী মাঠ, ইজতেমা ও বাণিজ্য মেলার মাঠ ব্যবহার করতে বলা হয়। কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রিজভী সাহেব গতকাল নয়াপল্টনে মামলার পরোয়ানা নিয়ে গেছেন। আরও বেশ কয়েকজন গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল। পুলিশের নাকের ডগায় যখন পরোয়ানাভুক্ত আসামি ঘুরে বেড়ায়, তখন তাদের গ্রেফতার করা পুলিশের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ ঢুকলে অবিস্ফোরিত ১৫টি ককটেল, দুই লাখ পানির বোতল, ১৬০ বস্তা চাল, রান্না করা খিচুরি, ডেকচি, হাঁড়ি-পাতিল পায়। এছাড়া নগদ দুই লাখ টাকাও সেখানে পাওয়া যায়।

বিএনপি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা সত্যিকার অর্থে দেশে গণ্ডগোল পাকাতে চেয়েছে। নয়াপল্টনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি নাটক করেছেন। এতদিন তিনি হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি যখন নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বসেছিলেন, তখন আশপাশে কেউ ছিল না। তাদের নেতাকর্মী কেউ ছিল না, সাংবাদিকরা ছাড়া।

বিএনপির মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

আইএইচআর/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।