চট্টগ্রাম যুব ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম সম্পাদক জাবেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০১:৪১ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে যুব সমাজ এক হও’ স্লোগানকে সামনে রেখে যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার ত্রয়োদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর সিনেমা প্যালেস চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শাহ আলমকে সভাপতি ও জাবেদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার বিদায়ী সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়া। সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক, যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ত্রিদিব সাহা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫১ বছর উদযাপিত হচ্ছে। আজও দেশের এক কোটি ১০ লাখ প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক, ২ কোটি ৩০ লাখ কৃষি শ্রমিক এবং আরও প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ অন্যান্য পেশার শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক, সামাজিক বা স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষ ক্রমেই আরও নিঃস্ব হচ্ছে। দেশের ৩ শতাংশ লুটেরা ধনীর বিপরীতে ৯৭ শতাংশ সাধারণ মানুষ। দেশের এক চতুর্থাংশ কর্মক্ষম মানুষের পূর্ণকালীন কাজের ব্যবস্থা নেই। সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫১টি শূন্যপদ রয়েছে।

তারা বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষিত যুবদের ৪৭ শতাংশের কাজ নেই। দেশের বিপুল এই কর্মহীন যুবদের সঙ্গে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে যোগ হয়েছে আরও কোটি বেকার। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি বলছে, করোনাকালে প্রায় ৩ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে। কমপক্ষে ১৪ লাখ প্রবাসী শ্রমিক বেকার হয়েছেন। ফরমাল সেক্টরে ১৩ ভাগ মানুষ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে দেশের ৭২ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনের সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের বিপুল কর্মহীন যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের সে দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। সরকার দেশের মানুষকে যে উন্নয়নের মডেল দেখাচ্ছেন তা লুটপাটের উন্নয়ন। এই সরকার ২০০৮ সালের ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়ে শুরু করে এখন ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। যে অর্থনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না তা বন্ধ্যা। যুব ইউনিয়ন এই উন্নয়ন মডেলকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

তারা বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অন্যদিকে লুটপাট জনজীবনে দুঃসহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জাতীয় নির্বাচনে যত এগিয়ে আসছে ততই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও নিজের ভোট নিজে দিতে পারা নিয়ে সংশয় ঘনীভূত হচ্ছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়ে অব্যাহত দুঃশাসনে মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়ে আছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বর্তমান তীব্রতম সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের কোনো প্রচেষ্টা নেই। সার্বিক পরিস্থিতিতে যুবসমাজকে সংঘটিত করে কর্মসংস্থান ও ভোটাধিকার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান তারা।

এর আগে, বিকেল ৩ টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণার পর ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নতুন কমিটিতে প্রীতম চৌধুরী, রুপন কান্তি ধর, আব্দুল হালিম, নাবিলা তানজিনাকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও শেখ শিপন, রুবেল দাশগুপ্ত, শহিদুল ইসলাম রিপন, শান্তুনু চৌধুরীকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং রাশিদুল সামিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক, অভিজিৎ বড়ুয়াকে কোষাধ্যক্ষ, বিপ্লব দাশকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়। তাছাড়া সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে জুয়েল বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি, তথ্য ও গবেষণা বিয়ক সম্পাদক রবি শংকর সেন নিশান, ক্রীড়া সম্পাদক মিঠুন বিশ্বাস, নারী বিষয়ক সম্পাদক সালমা আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ নাঈম উদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিপন বড়ুয়া এবং রিপায়ন বড়ুয়া, ইউসুফ সোহেল, ইনতেখাব সুমন, মুজিবুর রহমান ও রিপন দেবকে সদস্য করা হয়।

ইকবাল হোসেন/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।