ব্যস্ততা কেড়ে নেয় শিশুদের ভালোবাসা

জমির হোসেন
জমির হোসেন , ইতালি প্রতিনিধি ইতালি
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৩:১৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
ফাইল ছবি

ব্যস্ততা কেড়ে নেয় কোমলমতি শিশুদের ভালোবাসা। ফলে বাবা-মার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয় ছেলে-মেয়েরা। চাকরি এবং ব্যবসাকে প্রাধান্য দেয়ায় বাচ্চাদের দেখাশোনার সময় থাকে না বাবা মায়ের। বাস্তবতায় জীবন, এ জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে অবহেলার শিকার হয় শিশুরা।

পৃথিবীতে এমন একজন বাবা-মা খুঁজে পাওয়া যবে না, যে তার সন্তানকে স্নেহ-মমতা থেকে দূরে রাখতে চায়। মাঝে মধ্যে অনিচ্ছাও যেন ইচ্ছায় পরিণত হয়। জীবিকার তাগিদে অনেক কিছুই বাধ্যগতভাবে করতে বাবা-মায়েদের।

জমির হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, পরবাস ইতালিতে এসেছি জীবিকার তাগিদে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই কাজ করতে হয়। আর সেজন্যই পরিবারের শিশুদের ঠিকমতো খোঁজখবর নিতে পারি না। এজন্য নিজের কাছেও খুব খারাপ লাগে।

ইউরোপে এমন শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ৯৯ ভাগ। শিশুদের বাবা-মা থাকার পরও লালিত-পালিত হয় অন্যের আদর স্নেহে।

ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এক সময় তাদেরই দুঃখ কষ্ট পেতে হয় সন্তানদের কাছ থেকে। শত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে বেড়ে উঠছে ইউরোপিয়ান শিশুরা। বাবা মায়ের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আদর করতে পারছে না সন্তানদের।

সন্তানের প্রতি মায়া থাকার পরও বাধ্য হয়ে শিশুদের দূরে রাখছে ইউরোপিয়ান বাব-মায়েরা। মাস শেষে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ যোগাতে ব্যস্ত তারা। ইউরোপের জীবনযাত্রা একটু ব্যতিক্রম। এশিয়ার মতো কেউ কারও ওপর নির্ভর করে চলে না। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত।

এছাড়া এখানে কেউ কারও ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে সবাইকে কাজ করতে হয় পুরোদমে। বাবা-মা সন্তানদের ১৮ বছর পর্যন্ত দেখাশোনা করে। এরপর সন্তানদের নিজের মতো চলতে হয়। এ রকম বাস্তবতা ইতালিয়ানদের বেলায় দেখা গেলেও ইউরোপের অন্যান্য দেশে একই অবস্থা। তবে একটু ব্যতিক্রম দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে বেড়ে উঠা বাংলাদেশি শিশুরা যারা ইতালিতে স্বাভাবিক আদর স্নেহে বেড়ে উঠছে।

অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ইউরোপিয়ানরা সহজে বাচ্চাও নিতে চায় না। ফলে জন্মহার থেমে থাকছে। এ দেশে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার বেশি। এছাড়া শিশুর লালন-পালন করতে ব্যয় ভারও অনেক বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর আলাদা খরচ যোগান দিতে না পারলে মূল বেতন থেকে খরচ বহন করতে হবে। তাছাড়া সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হবে।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :