ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সঙ্কট নিরসন এবং অপরাধমূলক জবাবদিহিতার অভাব’ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না।

রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির কাছেই অবস্থিত জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সেমিনার হলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গ্লোবাল ক্রাইম জাস্টিসের অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ স্টেফান র‌্যাপ, বাংলাদেশে বহুল আলোচিত টবি ক্যাডম্যান এবং আল্মোডেনা বের্নভিউ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডেভিড ম্যককিন।

bangladesh

অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ ও কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দর্শক সারিতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত আসামিদের নিকট আত্মীয়দের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে এবং তাদের সঙ্গে টবি ক্যাডম্যানের ঘনিষ্টতা ছিল লক্ষ্যণীয়। যাতে সহজেই অনুমেয় যে, এই আলোচনা ছিল মূলত বাংলাদেশবিরোধী একটি প্রচারণা যা যুদ্ধাপরাধের দণ্ডিতদের অর্থায়নে আয়োজিত।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক গ্লোবাল ক্রাইম জাস্টিসের অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ স্টেফান র‌্যাপ তার আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তৎকালীন সময়কার যুক্তরাষ্ট্র নীতিসহ যুদ্ধাপরাধীদের কথা তুলে ধরেন এবং ট্রাইবুনালের পদ্ধতিগত বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, তখনকার (১৯৭১) যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন।

bangladesh

বাংলাদেশকে নিয়ে পরবর্তী যেকোনো ধরণের আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্টেফান র‌্যাপ।

তিনি প্যানেল আলোচকদের আলোচনার বিরোধিতা করে বলেন, বাংলাদেশে যে আইনের শাসন চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় ২৩ জন র‌্যাব সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদী কারদণ্ড ও ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

এসময় যুদ্ধাপরাধীদের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত টবি ক্যাডম্যানকে বিমর্ষ দেখা যায়। তিনি স্টেফান র‌্যাপের কথা কোনো উত্তর দিতে সক্ষম হননি।

অনুষ্ঠানে মাত্র পাঁচ মিনিটের প্রশ্ন-উত্তর সেশন রাখা হয়। প্রশ্ন-উত্তর পর্বের শুরুতেই প্যানেলে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব না রাখায় মাহবুব হাসান সালেহ তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আলোচকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা সেখানে আলোচক হিসেবে তিনি প্যানেলে থাকলেই আলোচনা অনুষ্ঠানটি গুরুত্ব পেত।

bangladesh

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন প্রসিকিউটর অমর ইসলাম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখানে এ ধরণের আলোচনার সরাসরি বা পিছন থেকে কারা অর্থের যোগানদাতা? দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা ওয়াশিংটনের মতো একটি জায়গায় বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় কিভাবে উপস্থিত থাকে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতেই সকল বিচারকার্য পরিচালনা করছেন ও তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবেই করছেন।

অনুষ্ঠানে দস্তগীর জাহাঙ্গীর তুঘ্রীল আলোচকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরেপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে স্থান করে নিয়েছিল সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ৩০ লক্ষ মানুষ ও ২ লক্ষ মায়েদের সম্ভ্রম লুট করেছে তাদের পক্ষ নিয়ে জর্জ টাউন ভার্সিটির মতো পবিত্র ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের তথাকথিত আলোচনা মানায় না।

তিনি আরও বলেন, সঞ্চালক বলেছেন- বাংলাদেশে গত নির্বাচন সকল বিরোধীদল নাকি বয়কট করেছেন, এটা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।বর্তমান সরকার কোনো একক দলের সরকার নয়, এটি একটি জোটের সরকার ও সংসদে কার্যকরী বিরোধীদলও বিদ্যমান। গত নির্বাচনে একটি দল নির্বাচন থেকে বিরত থাকে এবং তা তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার।

অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠান স্থলের বাইরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমর ইসলাম, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, আলতাফ হোসেন মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

শিব্বির আহমেদ/এমবিআর/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :