কখনো নাটকীয় আত্মহত্যা কখনো গুম সৌদি প্রবাসী জাকিরের

আব্দুল হালিম নিহন
আব্দুল হালিম নিহন , সৌদি আরব প্রতিনিধি সৌদি আরব
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৯:০৬ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮
কখনো নাটকীয় আত্মহত্যা কখনো গুম সৌদি প্রবাসী জাকিরের

প্রথমে ফেসবুকে, এরপর কিছু নিউজ পোর্টালে দেখা গেছে আত্মহত্যার একটি সংবাদ। শিরোনামটি ছিল ‘সৌদি প্রবাসীর আত্মহত্যা ইকামাতে নাম পাওয়া গিয়েছে’ প্রবাসীর আত্মহত্যার বিষয়টা জানার জন্য একবার হলেও ক্লিক করবে। আর এক ক্লিকেই লাভবান হচ্ছে পোর্টালের মালিকরা। মানুষকে প্রতিনিয়ত বোকা বানাচ্ছে এসব ওয়েব ব্যবসায়ীরা।

সৌদি আরবে আত্মত্যার সংবাদটি নজরে আসে জাগো নিউজের সৌদি আরব প্রতিনিধির। পরে এ প্রতিবেদক ধারাবাহিক অনুসন্ধান চালায়। কোথায় আত্মহত্যা করেছে, প্রকৃতপক্ষে কে করেছে? কেন করেছে ইত্যাদির বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলতে থাকে। একের পর এক বেরিয়ে আসে রহস্য।

mediaএ চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে ইনবক্সে জানায়, জাকির নামে এক প্রবাসী নির্জন এক পরিত্যক্ত বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে! তার লাশ এখন জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। লাশের সঙ্গে একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছে। আত্মহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে তিন জনের নাম লিখে গিয়েছে।, নামগুলো হলো- রাজীন, রাজ মিয়া ও ইদ্রিস!

এসব ম্যাসেজ দিয়েছেন প্রবাসী মারুফ নামে এক ব্যক্তি, পরে মারুফের কাছ থেকেই বিষয়টা ভাইরাল হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির আত্মহত্যা করেনি। সাজানো নাটক ছিল, মারুফকে ফেসবুকে বেশ কয়েকবার ভয়ভীতি দেখানোর পর সে শিকার করেন এটি মিথ্যা এবং তাকে ম্যাসেজ দেয়াতে বাধ্য করা হয়েছে। ইদ্রিস নামে ওই ব্যক্তি তাকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আর ইদ্রিসের সঙ্গে টাকার লেনদেন হয়েছে জাকিরের। মোটা অঙ্কের টাকার জন্য মূলত এ নাটক সাজান তারা। লাশ দেশে পাঠাবে বলে যেন দেশ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আনতে পারে। জাকিরের এ আত্মহত্যার কথা শুনে বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হন দেশের বাড়িতে তার বাবা- মা।

এ প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমেরিকা থেকে জাকিরের বড় বোন এবং ভগ্নিপতি। তাদের থেকে বেশ কিছু তথ্য সগ্রহ করে যোগাযোগ করা হয়েছে জাকির যার মাধ্যমে সৌদি আরব এসেছে তার সঙ্গে। সৌদির হাইলে জাকিরের এক শালা এবং ভাইরা রয়েছেন যারা জাকিরকে সৌদি আরব আনতে সহযোগিতা করেছেন।

জানা গেছে, ভিসার টাকা নিয়ে তাদের ভেতর ব্যাপক ঝামেলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য ভাইরা ইদ্রিস এবং শালা রাজনের কাছে ফোন দিলে তারা জাকির নামে কাউকে চেনে না বলে জানিয়েছেন।

media

জাকিরের স্ত্রী, রাজনের বোন লাভলীর সঙ্গে কথা হয়। লাভলীর স্বামী জাকির সেটা শিকার করেছে। তবে স্বামী জাকির কীভাবে বিদেশ গেছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি। জাকিরসহ চক্রের সবার বাড়ি কুমিল্লায়।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com