জিপিএস ট্র্যাকার খুলে দেয়ায় স্বস্তিতে বাংলাদেশি সালমা

কৌশলী ইমা কৌশলী ইমা , যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসার আদেশ স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরে পেলো প্রবাসী বাংলাদেশি সালমা রেজা সিকান্দার ও তার পরিবার। দেড় যুগ পর অবৈধ অভিবাসীর কালিমা আর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নজরদারি থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। তার পায়ে লাগানো জিপিএস ট্র্যাকার খুলে দেয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরত যাবার কথা ছিল সালমার। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আদেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মূলধারার রাজনীতিবিদরা।

ফলে ২৯ ঘণ্টা আগে বুধবার বিকেল চারটার দিকে সালমার বহিষ্কারাদেশ বাতিল করতে বাধ্য হন আইসিই। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সালমার পায়ে লাগানো জিপিএসযুক্ত বেড়ি খুলে দেয়া হয়।

সালমা রেজা সিকান্দারের স্বামী জানান, সালমার বহিষ্কারাদেশ পাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি আমরা। গত তিনদিন ধরে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছি। প্রবাসীদের কোন পরিবারে এ ধরনের একটি ঘটনা যে কত বেদনাদায়ক এবং আতঙ্কের তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আর কারো ভাগ্যে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। এই দুঃসময়ে কানেকটিকাটের প্রবাসীদের মধ্যে যারা তাদের পাশে এসে সহমর্মিতা দেখিয়েছেন তাদের সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হ্যাভেনের বাসিন্দা সালমাকে ২৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার জেএফকে বিমানবন্দর থেকে বিমান টিকিটসহ দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। কিন্তু প্রবাসীদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আর স্থানীয় মার্কিন রাজনীতিবিদের জোর প্রচেষ্টার ফলে সালমার বাংলাদেশে ফেরত যাবার নির্দেশ বাতিলের দাবিতে কানেকটিকাটের প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হিউম্যান রাইটস প্রতিনিধিরা ইউএস কোর্টের সামনে দু’দফায় বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শেষে গত মঙ্গলবার বিকেলে ৪টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সালমা কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড শহরে ইউএস কোর্ট হাউসের সামনে ৪১ ঘণ্টার অনশন ধর্মঘট শুরু করেন সালমার পরিবার ও হিউম্যান রাইটসের প্রতিনিধিরা।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বিভাগের বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিল (বিআইএ) সালমার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সংক্রান্ত আবেদন নাকচ করে দেন।এ খবর শুনে সালমার পরিবার, আন্দোলনকারী প্রবাসী বাংলাদেশি ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন রাজনীতিবিদরা বিচলিত হয়ে পড়েন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিকেল চারটার দিকে সালমার বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে আরও এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।

আইসিই’র এই আদেশের খবর পেয়ে সালমার পরিবারসহ সকল প্রবাসীদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।

১৯৯৯ সালে ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন সালমা। ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পর আর দেশে ফিরে যাননি। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে অবৈধ অভিবাসীর কালিমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বাংলাদেশি সালমা রেজা সিকান্দার। যুক্তরাষ্ট্রে ছেলে জন্ম নেবার পর তিনি তার ছেলের দেখাশোনা করার জন্য এদেশের থাকার জন্য একটি কষ্টের আবেদন করেন। সালমার ১৭ বছর বয়সী ছেলে সামির মাহমুদ স্থানীয় কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন।আগামী ২৭ আগস্ট সোমবার থেকে তার ক্লাস শুরু হবে।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]