সৌদিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা

ক ম জামাল উদ্দীন ক ম জামাল উদ্দীন , সৌদি আরব
প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৯

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিব্স উদযাপন করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন দিবসটি উদযাপন করেছে। তবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশের কোটি প্রাণের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সৌদি আরবের খামিছ মোশায়েতের বঙ্গবন্ধু পরিষদ আসির প্রদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি নানা আয়ােজন করে। দিবসটি উপলক্ষে মোশায়েতের স্থানীয় একটি হােটেলে মিলনায়তনে সংগঠনটির সভাপতি নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালক ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক এইচ এম কামাল চৌধুরী।

প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা শফিউল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আজাদ রহমান, কিং খালিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রভাষক অধ্যাপক উসামা খালিদ, সৌদি টিভির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রিশিয়ান বিভাগের আবাহ শাখার কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, এস এম জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আহমদ আলী নঈমী, আব্দুল মুকিত চৌধুরী শেলু, আব্দুল করিম, মাঈনুদ্দীন বিশ্বাস, ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ লোকমান। প্রধান বক্তা ছলিনে এম এ রহিম ফারুক মাহমুদী।

আরও উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল আলম, ওয়াহেদ আলী, আমান উল্লাহ, নাসির উদ্দীন, মহিউদ্দিন, বেলাল উদ্দীন, মুহাম্মদ আজম, এয়াকুব আলী, নেজামুল ইসলাম, মিন্টু সুশীল, আমির হোসেন, ইমাম উদ্দীন ও রতন প্রমুখ।

আব্দুল কুদ্দুসের কণ্ঠে পবিত্র কােরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ ও গাজীদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।

saudi

তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যার সূচনা করে। নিরস্ত্র নিরপরাধ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। তখন মুক্তি সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানায় ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবদেন করছি।

‘আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবদেন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান।’

বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের জীবনের বিনিময়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে বিশ্বে দরবারে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দণ্ডায়মান হয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারবর্গ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত। দোয়া-মাহফিল পরিচালনা করেন সংগঠনের ধর্মবষিয়ক সম্পাদক মাওনালা ইউছুফ।

কিং খালিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মিডিয়া প্রতিনিধি, পেশাজীবী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও সংগঠনটির অধীনস্থ বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এমএসএইচ/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :