কানেক্ট বাংলাদেশের তিন সমন্বয়ককে অব্যাহতি

জমির হোসেন
জমির হোসেন জমির হোসেন , ইতালি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কানেক্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিকল্পনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বসম্মতিক্রমে কানেক্ট বাংলাদেশের তিন সমন্বয়ককে সাংগঠনিক বিরোধী কার্যক্রমের জন্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্ত সমন্বয়করা হলেন-১) আব্দুর নূর দুলাল, সমন্বয়ক বাংলাদেশ শাখা ২) লুৎফা হাসিল রোজী সমন্বয়ক আমেরিকা ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সমন্বয়ক কুয়েতকে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য সংগঠনটির সবরকম কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

রোববার, (৮ সেপ্টেম্বর) কানেক্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিকল্পনা পরিষদের সভা আখি সীমা কাউসার (ইতালি) এর সভাপতিত্বে, কাজী আসাদুজ্জামানের (সুইজারল্যান্ড) সঞ্চালনায় বিকেল পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সংগঠনের পরিকল্পনা পরিষদের সম্মতিক্রমে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য লুৎফা হাসীন রোজী, আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে এবং পরিকল্পনা পরিষদ, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

সভায় এজেন্ডাসমূহ সমর্থন করে উপস্থিত সদস্যরা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিঞা (কানাডা), সিকদার গিয়াসউদ্দিন (আমেরিকা), ফ্রান্সের সাদী রহমতুল্লাহ (রমু), মনসুর চৌধুরী (ফ্রান্স), জাফর আজাদী (ফ্রান্স), আলম শাহ্ (ইতালি), নূরুল আমিন (ইউকে), ডা. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (ইউকে), হারুনুর রশিদ (জার্মানি), আবু তাহের গিয়াসুদ্দিন আহমদ খিজির (ইউকে)। সভার এজেন্ডাসমূহ নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর সর্বসম্মতিতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়-

এজেন্ডা-১ অনুযায়ী নিম্নলিখিত সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য লুৎফা হাসীন রোজী, আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে দায়ী করা হয়। কারণ সমূহ নিম্নরূপ-

১) গত ২১ জুলাই ২০১৯ পরিকল্পনা পরিষদে গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা যা গঠনতন্ত্রের ৫.৪.৫ উপধারায় সুস্পষ্ট লংঘন।
২) পরিকল্পনা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে লুৎফা হাসীন রোজী ও আব্দুন নূর দুলাল সংগঠনের বাংলাদেশ শাখাকে ব্যবহার করে ঢাকায় আগামী ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ এ ‘কেন্দ্রীয় বিশেষ সম্মেলন’ আহ্বান করেছেন এবং মোহম্মদ আলী জিন্নাহ তা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রচার করছেন যা গঠনতন্ত্রের ৫.৪.৬ ও ৬.২.১১ উপধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

৩) কানেক্ট বাংলাদেশকে বিভক্ত করার জন্য সংগঠনের ভেতর উপরিল্লিখিত তিনজন সদস্য একটি উপদল তৈরি করেন (৬.২.১০ উপধারা দ্রষ্টব্য)। প্রমাণ স্বরূপ কানেক্ট বাংলাদেশের সদস্যরা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে গত ২ আগস্ট ২০১৯ সালে তারা CB Central Coordinating Committee নামে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সদস্যদের নাম সেই কমিটিতে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদেরকে প্রভাবিত করে সংগঠনে বিভক্তির সূচনা করে যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিরোধী বলে প্রতীয়মান হয়।

৪) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘কানেক্ট বাংলাদেশের ফেইসবুকের অন্য পাঁচজন অ্যাডমিনকে অপসারিত করেন এবং নিজে এককভাবে কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন-যা সংগঠন বিরোধী তৎপরতা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার পছন্দের কয়েকজনের লেখাসহ অননুমোদিত ঢাকা সম্মেলনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে পরিকল্পনা পরিষদের নামে অবৈধভাবে সম্প্রচার করেছেন ও করছেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ‘জনজীবন’ পত্রিকায় জিন্নাহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি ফেইসবুক পরিচালনার জন্য একা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। যা গঠনতন্ত্রের ৬.২.১১ উপধারার সুস্পষ্ট লংঘন।

কানেক্ট বাংলাদেশ মনে করে এই তিনজন সমন্বয়ক ভবিষ্যতে কানেট বাংলাদেশের লোগো দিয়ে যদি কোনো রকম প্রচার অভিযান চালায় তাহলে তা কানেক্ট বাংলাদেশের সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ বলে গণ্য হবে।

এমআরএম/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]