মালয়েশিয়া যুবলীগ নেতার বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ প্রবাসীরা

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মালয়েশিয়া যুবলীগ নামধারী নেতার বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন দেশটির প্রবাসীরা। পারমিট করে দেয়ার নামে নিজ এলাকার প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। শেষ পর্যন্ত কাউকেই ভিসা করে দিতে পারেনি।

ভুক্তভোগীরা পাসপোর্ট টাকা ফেরত চাইলেই তাদের হুমকি দেয়া হয় এমন অভিযোগ উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দালাল আখ্যা দিয়েছেন যুবলীগ নামধারী নেতাকে। কে সেই নেতা? এত প্রভাব তার? তিনি আর কেউ নন। তিনি হচ্ছেন জহিরুল ইসলাম জহির। শরীয়তপুরের শখিপুর থানার বাসিন্দা।

নিজের স্বার্থে ভাটা পড়লে কমিউনিটির নেতাদের নিয়ে কুৎসা রটনায় ব্যস্ত থাকেন জহির। এ ছাড়া নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক পরিচয় দিয়ে হিরো হওয়া যাবে এমন ইস্যু নিয়ে মন্ত্রী ও দলের বিরুদ্ধেও কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীকে বিনা ভোটের বাণিজ্য মন্ত্রী বলে হোয়াইটস অ্যাপে ভয়েস রেকর্ড করে বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল করা হয়। যা পরে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের হাতে হাতে পৌঁছালে জহিরুল অপর এক রেকর্ডে বলছেন, ‘এসব কথা যারা ভাইরাল করেছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করব আমি, কাউকে ভয় পাই না।’

গত ১১ জুলাই কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ প্রদর্শনী শীর্ষক ‘গ্লোবাল’ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ আসছেন সংবাদ পেয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য জহিরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। অবস্থানকালীন তাকে গুরুত্ব না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ভয়েস রেকর্ডে এসব কথা বলেছে জহিরুল। বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়ে এমন কথা বলেও ক্ষান্ত হননি তিনি।

এরপর বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়ে জহিরুলের ভাষ্য- ‘এই টিপু, কাইল্লার ঘরের কাইল্লা, ওই (বাণিজ্য মন্ত্রী) রংপুরে নদীতে মাছ ধরেছে, ওইতো বিনা ভোটে এমপি হওয়ায় মন্ত্রী বানায়া দিছে জয় মামায়। ওরতো কোনো যোগ্যতাই নাই।’

হোয়াটস অ্যাপে ভয়েস রেকর্ডে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সীকে বয়কট ও ঘৃণা করে বললেও পরে মন্ত্রীর সান্নিধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছে সে। মন্ত্রীর সাথে ছবি তুলবে না বলে নীতিবান হতে চাইলেও মন্ত্রীর পাশে বসে ছবি তুলেছে জহিরুল। এই হলো তার নীতিতে অটুট, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আর আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ার নমুনা।

তার এমন আচরণে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে জহিরুল। আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকা অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা হাইকোর্টের থাকার পরও ৩ সেপ্টেম্বর জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে তারেক রহমানের এক বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করে প্রচার করেছেন।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে জহিরুল ইসলাম। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর জহিরুল তার ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তকে তেলবাজদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।

জহিরুল লিখেছেন, শোভন-রাব্বানী কাউকে তেল মারতো না। বিজয়ীদের পাশে নয় বরং শোভন-রাব্বানীর পাশে আছি বলছে জহিরুল। জহিরুলের এমন মন্তব্য মালয়েশিয়া আওয়ামী পরিবারের শীর্ষ নেতারা পাগল আখ্যায়িত করলেও জহিরুল ইসলাম জহিরের এমন আচরণে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ নেতাকর্মীরা বলছেন শীর্ষ নেতারা পাগল আখ্যা দিলেও আমরা যারা সাধারণ কর্মী সবাই জহিরুলের আচরণে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের বাজে মন্তব্য শুনতে হয় আমাদের।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]