মেয়ের চিকিৎসায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাবা-মায়ের আইনি জয়

ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল
ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল ফিরোজ আহম্মেদ বিপুল লন্ডন
প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৯

লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাবা-মা তাদের পাঁচ বছরের অসুস্থ মেয়ে তাফিদা রাকিবকে ইতালিতে চিকিৎসার অনুমতি পেল। বৃহস্পতিবার (৩ আক্টোবর) যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট তাফিদার বাবা-মায়ের পক্ষে রায় দেয়, ফলে লাইফসাপোর্ট চিকিৎসার জন্য তাকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার বাধা দূর হয়।

যুক্তরাজ্যের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে প্রায় সাত মাসের বেশি সময় ধরে চিকিত্সাধীন রয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫ বছরের শিশু তাফিদা রাকিব।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তাফিদা রাকিব পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালের বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন (কোমায়) রয়েছে। মস্তিষ্কের একটি ধমনী ও সরু রক্তনালীর অস্বাভাবিক সংযোগের কারণের তাফিদার মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, তাফিদার এই ঘুম ভাঙার তেমন কোনো আশা নেই, তাই কৃত্রিম উপায়ে আর বাঁচিয়ে না রেখে তার জীবনাবসান ঘটানো শ্রেয়। তাফিদার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা নিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এনএইচএস ও তাফিদার পরিবার দ্বারস্থ হয় আদালতের। রয়েল লন্ডন হাসপাতাল তাফিদাকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আদালতের শরণাপন্ন হন তাফিদার মা। পাশাপাশি লাইফ সাপোর্ট খুলে তাফিদাকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতির আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

ma2

তাফিদার মা সেলিনা রাকিব আদালতে বলেছেন, লাইফসাপোর্ট খুলে ফেলা ‘সন্তানের জীবনাবসানের পক্ষে মা-বাবার সম্মতি দেওয়া ধর্মীয় বিধান মতে পাপ’।

বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ের পর তাফিদার বাবা মোহাম্মদ রাকিব সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তাফিদার পরিবারের আইনজীবী ডেভিড লক জানান, হাইকোর্টের রুল তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। বিচারক ম্যাকডোনাল্ড প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে তাফিদা ও তার বাবা-মায়ের মঙ্গল কামনা করেন।

তাফিদার বাবা-মায়ের আইনজীবী পল কনরেথ বলেন, আদালতের রায়ে তাফিদাকে ইতালিতে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি পাওয়া গেছে। সে যন্ত্রণায় ভুগছে না এবং আরও প্রায় ২০ বছর বাঁচতে পারে। এই রায়ে প্রমাণিত হলো শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো চাওয়া শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানই নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাপ্তিও রয়েছে।

এসএইচএস/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]