ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে নিহত ১, নিরাপদে বাংলাদেশিরা

লস্কর আল মামুন
লস্কর আল মামুন লস্কর আল মামুন , যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ক্যালিফোর্নিয়া (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ে ছাই হচ্ছে একের পর এলাকা। এ পর্যন্ত দাবানলে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন এক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী।

শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরাঞ্চলে স্যাডেলরিজ এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা। তাই এবারের দাবানলকে বলা হচ্ছে ‘স্যাডেলরিজ ব্রাশফায়ার’। এরই মধ্যে এই দাবানলে পুড়ে গেছে প্রায় সাত হাজার ৫৪২ একর এলাকা।

দাবানল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশিরা বসবাস করছেন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন তাদের কাছাকাছি থাকায় পুরো এলাকায় ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ, ভস্মীভূত অংশ বাতাসে উড়ছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ।

দাবানলের কারণে এই এলাকার স্কুল-কলেজ গত দুদিন (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যস্ততম চারটি ফ্রিওয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এলাকবাসীদের জরুরি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Fire-1

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এক হাজারেরও বেশি অগ্নিনির্বাপণ কর্মী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আগুন থেকে রক্ষা করতে এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। আমেরিকান রেডক্রসসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের সেবা দিচ্ছে।

দাবানল আক্রান্ত এলাকা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি মেয়র এরিক গারসেটি। নর্থরিজ কমিউনিটি সেন্টার আশ্রয়কেন্দ্রে এক প্রতিনিধিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিটি মেয়র এরিক গারসেটি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করা হচ্ছে।

ওই কেন্দ্রে কর্মরত আমেরিকান রেডক্রসের সুপারভাইজার মিরিয়াম এন্ডিনো বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের থাকা-খাওয়ার বাবস্থাসহ দাবানলের সর্বশেষ তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে আসা শাহিদা খান বলেন, তিনি খুব কাছ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছেন। বাড়িঘর সবকিছু ফেলে শুধুমাত্র একটি ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছেন। তবে বাড়ি ফিরে তিনি তার বাড়িটি আগের অবস্থায় দেখতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। শাহিদার মতো অনেকে এমন অনিশ্চয়তাই রয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে এ দাবানল দুর্যোগ ঘটে। এতে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ঘরবাড়িসহ পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।

এসআর/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com