বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ‘স্পিক’

মো. রাসেল আহম্মেদ
মো. রাসেল আহম্মেদ মো. রাসেল আহম্মেদ
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

ধরুন, আপনি একটি দেশে বা শহরে নতুন এসেছেন। কাজ, পড়াশোনা কিংবা শরণার্থী হয়ে। সেখানে আপনার প্রথম এবং প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি? নিশ্চয়ই একবাক্যে বলবেন ভাষা এবং সাংস্কৃতি। হ্যাঁ, সত্যিই তাই। সকল আগন্তুকের জন্য এটিই চরম বাস্তবতা। অচেনা-অজানায় স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় এবং তাদের আচার আচারণ ও নিয়ম-কানুন নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়।

আর এসবের সমাধানের জন্য ২০১২ সালে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে যাত্রা শুরু করে ‘স্পিক’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। যেটি এখন বিশ্বের অন্যতম সফল অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে এর কার্যক্রম চলছে বিশ্বের ২৭টির বেশি শহরে। এই প্লাটফর্মটি ২০২১ সালের মধ্যে ৭৭টি শহরে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

Portugal

ইউরোপের জনপ্রিয় সামাজিক এই উদ্যোগটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘স্পিক’ বাংলাদেশে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ডজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

এই প্রথম ঢাকাতে এশিয়ার কোনো শহর হিসেবে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

Portugal

‘স্পিক’ এখন বিশ্বব্যাপী ১৫০টি দেশের ২৫ হাজার মানুষের বৈশ্বিক এক পরিবার যারা ইতোমধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও তাদের জীবনের গল্প একে অন্যের সাথে বিনিময় করছেন। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সেতুবন্ধনও তৈরি হচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারছে তারা।

(স্পিক) Website: www.speak.social, স্পিকের মাধ্যমে স্থানীয়দের সাথে অভিবাসী, সাময়িক কাজে আসা বিদেশি দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী, বহিঃবিশ্বের শিক্ষার্থী এবং শরণার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।

Portugal

এখন থেকে সহজেই যে কেউ যে কোনো দেশের ভাষা শিখতে এবং অন্যদের শেখাতে পারেন। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে অনলাইন টু অফলাইন পদ্ধতি যার মাধ্যমে সহজেই উৎসাহীরা একটি দেশের ভাষাতে নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে পারে। পাশাপাশি ধারণা নিতে পারে সে দেশের মানুষের আচার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং নিয়ম-কানুন সম্পর্কে।

এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সামাজিক সচেতনতামূলক ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সচেতন করার পাশাপাশি একে অপরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারে। এর মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক ও নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় কাজে উৎসাহ প্রদান করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চায়লে বাংলাদেশে স্পিকের প্রতিষ্ঠাতা মো. রাসেল মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন প্রত্যাশী। দক্ষ, অদক্ষ অনেকে দেশের বাহিরে যেতে চায়। তাছাড়া প্রচুরসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিতে আগ্রহী। তাই তাদের জন্য সুন্দর একটি প্লাটফর্ম হতে পারে ‘স্পিক’। কেননা এখান থেকে সহজে যাদের ওই নির্দিষ্ট দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান আছে, তাদের মাধ্যমে তা সরাসরি শিখতে ও চর্চা করতে পারে।

Portugal

তিনি বলেন, পাশাপাশি যে কেউ চায়লেই অন্যদের মধ্যে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করতে পারবে। পশ্চিমা বিশ্বে এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্থানীয়, অভিবাসী, দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও শরণার্থীদের মধ্যে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পর্তুগিজ সরকার, পর্তুগাল অভিবাসন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি স্পিকের সাথে কাজ করছে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে। বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সাথে ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করবে তিনি আশা প্রকাশ করেছে।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com