বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স যেভাবে কাজে লাগাবেন ইউরোপে

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশে নন প্রফেশনাল বা অন্যান্য দেশের লাইসেন্স কিভাবে ইউরোপের লাইসেন্সে পরিবর্তন করা যাবে সে বিষয়ে আজকের আলোচনা। যদিও লাইসেন্স পরিবর্তনের এগ্রিমেন্ট থাকা দেশের সাথে পরিবর্তন করা সম্ভব। জেনে রাখা ভালো, ইউরোপের সবদেশে বাংলাদেশের লাইসেন্স পরিবর্তন সম্ভব নয়। জেনে নেব বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স শেনজেনভুক্ত দেশ পর্তুগালে কিভাবে পরিবর্তন করব।

বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশে লাইসেন্স পরিবর্তনের প্রধান শর্ত হলো আপনার দেশের সাথে ওই দেশের চুক্তি আছে কিনা। যেমন মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশের লাইসেন্সই পর্তুগালে পরিবর্তন সম্ভব। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারত, এসব দেশের চুক্তি আছে। ফলে চাইলে সেটা পরিবর্তন করতে পারবেন। ২য় শর্ত হলো অপেশাদার (নন প্রফেশনাল লাইসেন্স) হতে হবে। হেভি ড্রাইভিং কার যেমন লরি, মালবাহী ট্রাক, স্কুল বাস, যাত্রীবাহী বাসের লাইসেন্স পরিবর্তন সম্ভব না।

প্রথমতো বাংলাদেশের নন প্রফেশনাল লাইসেন্সটি আপনাকে পর্তুগালে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রান্সলেশন ও নোটারি করে নিতে হবে। খুব সম্ভবত এখন বাংলাদেশ দূতাবাস ১৮ ইউরো নেবে।

দূতাবাস থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সত্যায়িত করতে যা যা লাগবে-

ড্রাইভিং লাইসেন্সের একসেট ফটোকপি, অরজিনাল লাইসেন্স, সত্যায়িত নোটারি সার্টিফিকেটের জন্য সর্বমোট ১৮ ইউরো।

এগুলো হাতে নিয়ে ২য় কাজটি হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মেডিকেল সত্যায়ন বা মেডিকেল সার্টিফিকেট বলে হয়ে থাকে পর্তুগালে।

কোথায় কত টাকা লাগবে- মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রায় সব ড্রাইভিং স্কুল থেকে নেয়া যায়। কেউ অরজিনাল সার্টিফিকেট টেস্ট করিয়ে নিতে চাইলে BIOPLUS R. César de Oliveira 14A, 1600-427 Lisboa থেকে করে নিতে পারবেন।

মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য যা যা লাগবে- রেসিডেন্স পারমিট, পর্তুগিজ মেডিকেল নম্বর (যেটা সোশ্যাল নম্বর বের হবার পর এবং রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার পর নিকটস্থ মেডিকেল থেকে দেয়া হয়) মেডিকেল সার্টিফিকেটের ফি ৩০ ইউরো সব জায়গায় একই।

এরপর রেসিডেন্স পারমিট, মেডিকেল সার্টিফিকেট দূতাবাস থেকে সত্যায়িত লাইসেন্সের কপি ও অরজিনাল লাইসেন্স নিয়ে চলে যাবেন পর্তুগিজ মবিলিটি অ্যান্ড রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি অফিসে চলে যেতে হবে।

জমা দেয়ার জন্য ভোরে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়। সাধারণত টোকেন শেষ হয়ে যায় ১২ টার মধ্যেই। তবে কেউ চাইলে ঘরে বসেও টোকেন নিতে পারবেন। তার জন্য আপনার মোবাইলে সিগা অ্যাপ থাকতে হবে।

নির্ধারিত টোকেন নিয়ে অপেক্ষা করুন। আপনার সিরিয়াল আসলে জমা দিয়ে ৩০ ইউরো ফি দিয়ে স্লিপ নিয়ে নিচের কাউন্টারে অপেক্ষা করুন ছবি তোলার জন্য। ছবি তোলে শেষ হলে কাজ শেষ। আপনার বাসায় পোস্টের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবে ২-৩ মাসের মধ্যে। যে স্লিপটি আপনাকে দেবে সেটা দিয়েও ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন।

যুবরাজ শাহাদাত/এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]