একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে নিউইয়র্কে সেমিনার

কৌশলী ইমা কৌশলী ইমা , যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্ক
প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে নিউইয়র্কে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জেনোসাইড (গণহত্যা) ও প্রতিরোধ দিবস ৯ ডিসেম্বর জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সেমিনার আয়োজিত হয়।

এই দিবসটির স্মরণে ‘আন্তর্জাতিক জেনোসাইড (গণহত্যা) দিবসের তাৎপর্য ও একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইড (গণহত্যা)’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেনোসাইড’ ৭১ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর ও পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনজুর চৌধুরী।

অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সেক্রেটারি (প্রেস) নূরে এলাহী মিনা।

ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো গণহত্যা বিষয়ক প্রথাটির ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং গণহত্যায় মৃত ব্যক্তিদের স্মরণ ও সম্মান করা। এটি জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে তাদের নিজ জনগণকে গণহত্যার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দায়িত্ব আছে।

new2.jpg

তিনি বলেন, গণহত্যার উস্কানি বন্ধ করা ও গণহত্যা ঘটলে তা প্রতিরোধ করা এই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ ও প্রতিরোধ দিবস প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর পালিত হয়। ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ ও প্রতিরোধ দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ দিবসটি ঘোষণার পর থেকেই জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ প্রতি বছর দিনটি পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকাতায় আজকের এই অনুষ্ঠান। ১৯৪৯ সালের ৯ ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে গণহত্যা প্রতিরোধ ও এ সংক্রান্ত শাস্তি বিষয়ক প্রথাটি গৃহীত হয়।

৭১ ফাউন্ডেশনের সভাপতি বলেন, ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনের রায়কে অস্বীকারীরা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং বাঙালির স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ৩০ লাখ বাঙালি ও নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা করে ২-৪ লাখ বাঙালি নারী।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন দলিলপত্রেও বলা হয়েছে যে, স্মরণকালের ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যার একটি হলো ১৯৭১ বাংলাদেশের জেনোসাইড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের পাকিস্তানিদের চালানো জেনোসাইড (গণহত্যা) সবচেয়ে বড় জেনোসাইড। ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’ বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্বা ফারুক হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, আকতার হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার, নির্বাহী সদস্য শরিফ কামরুল হিরা, কায়কোবাদ খান, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শাহনাজ মমতাজ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল ও সাধারণ সম্পাদক কায়কোবাদ খান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়খ শেখ জামাল হোসেন ও রহিমুজামান সুমন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হাসান জিলানী, নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগের সভাপতি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]