বিশ্বকাপ ঘিরে কাতারে জমছে বাংলাদেশিদের ফুচকা ব্যবসা

আনোয়ার হোসেন মামুন
আনোয়ার হোসেন মামুন আনোয়ার হোসেন মামুন , কাতার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২০

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের মতো ভ্যান গাড়িতে ফুচকা ও চটপটির দোকান সাজিয়ে বসেছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে তাদের বেচাকেনা। বাংলাদেশি এই খাবারের স্বাদ নিতে ভীড় জমান অভিবাসীসহ কাতারি নাগরিকরা। বৈধভাবে কম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়ায় এ পেশায় ঝুঁকছেন বাংলাদেশিরা।

টকঝাল জাতীয় খাবার সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ডাল আর বুট দিয়ে তৈরি এ ধরনের খাদ্যের চাহিদা সারা বছর একই থাকে। রাজধানীর দোহার মাইজার, সানাইয়া, আলাতিয়া, আবুহামোড়, ন্যাশনালসহ বিভিন্ন জায়গায় ফুচকা ও চটপটির ২০টির মতো বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান গড়ে উঠেছে।

চটপটি আর ফুচকার স্বাদ বাংলাদেশের মতো বলে জানান এক প্রবাসী। তিনি দেশ থেকে চটপটি আর ফুচকা বানানোর কাজ শিখেছেন।

কাতার প্রবাসী ফুচকা ব্যবসায়ী আব্দুল আল নোমান বলেন, ‘মূলত দুই বছর আগে শখেরবশে শুরু করি এই ব্যবসা। যথেষ্ট লাভ রয়েছে। অল্পকিছু টাকা হলেই এই ব্যবসা করা যায়। তাছাড়া এ দেশের আইন মেনেই ব্যবসা করছি। সবার সহযোগিতা পাচ্ছি।

QATAR2

তিনি বলেন, প্রবাসে ফুচকা ব্যবসা করে বহু বাংলাদেশির মুখ প্রতিনিয়তই দেখতে পাচ্ছি। তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হলে বেশ ভালো লাগে। শখেরবশে ব্যবসা শুরু করলেও এখন পুরোপুরি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছি। বিকেলের দিকে ঘোরাঘুরি না করে বাংলাদেশিরা ফুচকা কিংবা চটপটির ব্যবসা করতে পারে। এতে অতিরিক্ত কিছু টাকা আয় হবে।

আরেক বাংলাদেশি ফুচকা ব্যবসায়ী বলেন, কম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়াতে অনেকেই ফুচকা-চটপটির ব্যবসা করছেন। বিশ্বকাপের মতো বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে যে কোনো পেশার লোক এই ব্যবসা করতে পারেন। তাছাড়াও অনেক শিক্ষিত লোক আছে যারা এই ব্যবসা করে থাকেন।

এই ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয় দোকানির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুচকা-চটপটির ব্যবসা শুরু করতে অল্পকিছু টাকা বিনিয়োগ করলেই চলবে। তাছাড়া বড় পরিসরে ব্যবসা করতে চাইলে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে পারে।

যদিও কিছুদিন আগেও রাস্তায় এমন দোকানের অনুমতি ছিল না। প্রবাসীরা বলছেন, আগামী ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে পর্যটকদের দিষ্টি আকর্ষণ করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে কাতার সরকার।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]