মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ফের উত্তাপ, ক্ষমতার পালাবদলের শঙ্কা!

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ক্ষমতাধর মুসলিম রাষ্ট্র মালয়েশিয়া। কয়েকমাস আগেই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হয়। তার রেশ কিছুটা কাটতে না কাটতেই দেশটির রাজনীতির মাঠে ফের উত্তাপ বইছে। এ উত্তাপে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের কথায় তেমনটাই মনে হচ্ছে। নতুন সরকার গঠন করতে চান তিনি। সরকার গঠনে তার প্রতি রয়েছে এমপিদের শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন।

এ বিষয়ে তিনি রাজার সাক্ষাৎ চেয়েছেন। রাজা যদি তাকে অনুমতি দেন, তাহলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাতে ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে জন্ম নেয়া মুহিদ্দিন ইয়াসিন সরকারের পতন ঘটবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আনোয়ার ইব্রাহিম দাবি করেছেন, তিনি সরকার গঠন করতে চান। ক্ষমতা থেকে উড়িয়ে দিতে চান মুহিদ্দিনকে। যারা মাত্র ৭ মাস আগে জোটের ভেতর ষড়যন্ত্র করে মালয়েশিয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেন। আর তাতে ২০১৮ সালের মে মাসে নির্বাচিত ড. মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের পতন ঘটে। তবে আনোয়ার ইব্রাহিমকে কতজন এমপি সমর্থন করছেন- তিনি তা প্রকাশ করেননি।

তবে জানিয়েছেন, রাজার সাক্ষাৎ চেয়েছেন। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। বলেছেন, তার প্রতি এমপিদের যে সমর্থন রয়েছে- এতে প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে।

আনোয়ার দাবি করেছেন, তিনি সরকার গঠন করলে তাতে সমর্থন থাকবে জনগণের। এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকার দাবি প্রমাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন পিকেআর সভাপতি আনোয়ার ইব্রাহিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি অবশ্যই ফেডারেল সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারে করা উচিৎ। আনোয়ারের ঘোষণা কেবল একটি দাবি। যতক্ষণ না আনোয়ার তার দাবি সমর্থন করার জন্য প্রমাণ হাজির না করেন, পেরিকাতান ন্যাশনাল নেতৃত্বাধীন সরকার শক্ত।’ তিনি বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আছেন বলেও দাবি করেন। মহিউদ্দিন জনগণকে এই পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে আনোয়ার ইব্রাহীমের ঘোষণায় সাবাহ নির্বাচনে ওয়ারিশান প্লাসের পক্ষে ভোট পাল্টে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পিকেআর সভাপতি আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি ফেডারেল সরকার গঠনের পক্ষে তার যথেষ্ট সমর্থন আছে জানিয়ে যে ঘোষণা করেছেন তা ওয়ারিশান প্লাসের পক্ষে সাবাহ নির্বাচনে ভোট পাল্টে দিতে পারে।

ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ রোমজি অ্যাটিগ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন সমর্থিত গাবুনগান রাকিয়াত সাবাহ (জিআরএস) রাজ্য নির্বাচনী প্রচারে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তবে আনোয়ারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়ারিশান, উপকো, ডিএপি এবং পিকেআর সমন্বিত ওয়ারিশান প্লাস গঠিত হয় যা পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন), বরিশান ন্যাশনাল (বিএন) এবং পিবিএস নিয়ে গঠিত জিআরএসকে ছাড়িয়ে যাবে।

প্রকৃতপক্ষে এটি রাজ্য নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলবে। যেহেতু সাবাহ ভোটাররা আর জিআরএসে আগ্রহী হবেন না। এখন পর্যন্ত ওয়ারিশান প্লাস সমর্থন পাচ্ছে। এই সময়ে, জিআরএস মুহিদ্দিনের কারণে সমর্থন পাচ্ছে বলে মনে মনে করছেন রোমজি অ্যাটিগ।

তিনি আরও বলেন, আনোয়ারের সমর্থন যদি আমনো এবং পাসের সাংসদদের কাছ থেকে আসে তবে ওয়ারিশান প্লাসের অবস্থান বিপদে পড়তে পারে।

বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম আজ ঘোষণা করেন যে, নতুন সরকার গঠনের জন্য তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, বাদশা ইয়াং ডি-পার্টুয়ান আগোং তাকে সাক্ষাৎ প্রদান করার জন্য একমত হয়েছিলেন। যদিও সোমবার বাদশাহকে জাতীয় হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) ভর্তি করার পর এটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সাবাহ ইউআইটিএম-এর টনি পরীদি বাগাং বলছেন, আনোয়ারের ঘোষণা অবাক করে দিয়েছে। বিশেষত সাবাহ রাজ্যের ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে এখনও পিকেআর এবং অন্যান্য ওয়ারিশান প্লাস দলগুলোতে কিছুটা সুবিধা পাবে কি না- তা বলা খুব কঠিন। কারণ আনোয়ারের এই বক্তব্য প্রকাশ করার পর জনগণ (সাবাহ) তার প্রকৃত পরিণতি দেখতে চায়। যদি এটি ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন হয়, তবে এটি ভোটদানের ধরনকে প্রভাবিত করবে।

উল্লেখ্য, এ বছর মার্চে মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও সরকারে এক টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করেছিল। ওই সময় তখনকার ক্ষমতাসীন পাকাতান হারাপান জোটের কিছু বিপথগামী সদস্য ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিতদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে। তার সঙ্গে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনও। তাদের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতা হারাতে হয় ৯৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদকে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তার সঙ্গে রয়েছে ওইসব পার্টি, যাদেরকে ২০১৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ভোটে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এফআর/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]