কুয়েতে প্রবাসী কমানোর বিল চূড়ান্ত

সাদেক রিপন
সাদেক রিপন সাদেক রিপন , কুয়েত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

কুয়েতে প্রবাসী কমিয়ে আনতে একটি বিল চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশটির সংসদীয় মানবসম্পদ কমিটি সম্প্রতি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কাঠামোর ভারসাম্য সংক্রান্ত বিল নিয়ে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

সংসদীয় কমিটির সদস্য বদর আল-মোল্লা জানিয়েছেন, বিলটি ১০টি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত হয়েছে। এটিকে কুয়েতে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলার প্রথম গুরুতর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।

আরব টাইমস অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলটি অনুমোদনের ছয় মাসের মধ্যে কমিটি দেশটিতে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক প্রবাসী কর্মী লাগবে তা নির্ধারণ করা হবে। পাশপাশি প্রতিটি জাতীয়তার সর্বোচ্চ কত সংখ্যক প্রবাসী রাখা হবে তাও নির্ণয় করা হবে। এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

বিলটি অনুমোদনের দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা নির্ধারণ ও তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল-মোল্লা আরও জানান, এই বিল কিছু শ্রেণির কর্মীদের সংখ্যা নির্ধারিত করা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং তাদের পরিবার, সামরিক প্রতিনিধি, চিকিৎসা এবং শিক্ষামূলক কাজে নিয়োজিত কর্মী, বেসামরিক বিমান চলাচল অপারেটর যেমন পাইলট এবং কো-পাইলট, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় শ্রমিক এবং গৃহকর্মী।

বিলের ৬নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা মূলত প্রান্তিক এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মীর সংখ্যা নির্ধারণ করবে। অনুচ্ছেদ সাত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে বেসরকারি ও সরকারি উভয় খাতে প্রবাসীদের শূন্যস্থান পূরণ করতে নিজ নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

অনুচ্ছেদ ৮ এ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে গৃহকর্মীদের যাতে কোনোভাবেই সরকারি বা বেসরকারি চাকরি ক্ষেত্রে কাজের অনুমতিপত্র দেয়া না হয়।

এছাড়াও বিলে বলা হয়েছে, একটি পারিবারিক ভিজিট ভিসা নির্ভরশীল ভিসায় স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ। উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত শ্রমিকদের প্রকল্পে কাজের মেয়াদ শেষ হলে তা পুনরায় নবায়ন করা হবে না যদিনা অন্য প্রকল্পের জন্য কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

অনুচ্ছেদ ৯ এ বলা হয়েছে, কোনো প্রবাসী বা তার সঙ্গী এসব আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকবে। এক্ষেত্রে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩৫,০০০ কেডি জরিমানা করা হবে।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]